বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, আওয়ামী সরকারের ইসলাম বিদ্ধেষী কুৎসিত রুপ জনগণের থেকে লুকিয়ে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।
শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬) রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার বাছাইকৃত সাথী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে শিবির সেক্রেটারি আরো বলেন, একের পর এক নিকৃষ্ট কাজের ফলে সরকারের ইসলামবিদ্ধেষী মনোভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। আওয়মী লীগের কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে, তারা দেশ থেকে ইসলামকে নির্বাসনে পাঠানোর পায়তারা করছে।
শাখা সভাপতি হাসান জারিফের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোবারক হোসেন, শিক্ষা সম্পাদক এম এইচ সোহেল।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইসলামের প্রতি মায়াকান্না থাকলেও তাদের একের পর এক ইসলাম বিদ্ধেষী অপকর্ম দেখছে জাতি। আজ সিলেটে সরকারের সকল শর্ত মানার পরও কুরআনের তাফসির মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এই অপকর্ম শুধু ইসলামবিদ্ধেষীতার নমুনাই নয়; বরং মুসলীম জাতির সাথে চরম দৃষ্টতার শামিল।
তিনি বলেন, আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক ইসলামবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে। ইসলাম বিরোধী আইন, আলেম উলামাদের উপর গণহত্যা, বিচারের নামে অবিচার করে শীর্ষ ইসলামী নেতৃবৃন্দকে হত্যা, হয়রানী, জুলুম নির্যাতন, ইসলাম নিয়ে মন্ত্রী এমপিদের নিকৃষ্ট মন্তব্যসহ নানা ইসলামবিরোধী তান্ডব দেখেছে জাতি।
শিবির সেক্রেটারি আরো অভিযোগ করেন, এই সরকারের আমলে কয়েক হাজার মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নাস্তিক্যবাদকে মদদ দেয়া হচ্ছে। একটি মুসলিমপ্রধান দেশে এসব অপকর্ম মুসলিম বিশ্বে দেশের ভাব মর্যাদাকে দারুনভাবে ক্ষুন্ন করে চলেছে যা দেশ বিদেশে আওয়ামী সরকারের ইসলামবিদ্ধেষী মনোভাবকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
তিনি বাছাইকৃত সাথীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের যুব সমাজের একটি বিরাট অংশ যখন মাদক, অপসংস্কৃতি, সন্ত্রাস ও অনৈতিকতায় ডুবে আছে তখন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী তার বিপরীতে চলছে। সকল মত-পথ প্রত্যাখ্যান করে কুরআনের আলোকে নিজেদের ও ছাত্রসমাজকে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে। যে কোন মূল্যে এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।
ইয়াছির আরাফাত বলেন, যত ষড়যন্ত্র বাধা আসুক না কেন, জাতিকে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক উপহার দিতে ছাত্রশিবির জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ। তাই সব বাধার বিপরীতে নিজেদেরকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।
কেবি





