‘যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে চায়, সংখ্যা নিয়ে আপত্তি তোলে সেই বিএনপি-জামায়াত পারে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করতে।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড করবেন না’— এমনটি জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘জনতার দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক খাদ্যগুদাম (সাইলো) স্থানান্তরিত করা হবে।’
বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমিতে রবিবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রতিবাদী মুক্তিযোদ্ধা ও নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কথা বলেন মন্ত্রী।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এক সময় মনে করা হতো স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের কিছুই হবে না।
আমরা চার যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করেছি। পর্যায়ক্রমে অন্যদের বিচার হবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোন আপস নয়।
জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামানের সভাপতিত্বে বরিশাল বধ্যভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মানবেন্দ্র বটব্যাল তার বক্তব্যে উপস্থাপন করেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অসংখ্য নারী-পুরুষকে নির্যাতন করে এই দীঘিতে ফেলা দেওয়া হয়।
স্বাধীনতার পর তাদের কঙ্কাল পাওয়া যায়। আধুনিক খাদ্যগুদাম বরিশালে হোক এর পক্ষে তারা, তবে তা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুছে দিয়ে কিছুতেই নয়।
এই বক্তব্য শুনে মন্ত্রী প্রস্তাব রাখেন বধ্যভূমির জন্য আরও দুই বিঘা জমি বাড়িয়ে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও উন্নয়ন করে চলমান স্থানে সাইলো নির্মাণ করা যায় কী না।
মন্ত্রী এ সময় বধ্যভূমি রক্ষা কমিটির মতামত জানাতে সাত দিন সময় দেন। একই সঙ্গে বধ্যভূমির দীঘি ভড়াটসহ সকল কাজ বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক বলেন, আমরা আশা করছি মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কাজ বন্ধ থাকবে। রাতের আধারে ঠিকাদারের লোকজন দীঘি ভড়াটের কাজ করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দেশে আটটি আধুনিক খাদ্যগুদামের মধ্যে বরিশাল বিভাগে একটি নির্মিত হচ্ছে। এজন্য বধ্যভূমির সাড়ে পাঁচ একরের দীঘিটি ২০ ডিসেম্বর থেকে ভড়াটের কাজ শুরু করা হয়। এর প্রতিবাদ করেন মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় জনতা। তাদের বাধার পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্যমন্ত্রী রবিবার সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশালের তিনজন সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুচ, জেবুন্নেছা আফরোজ ও এ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতান এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা তাদের স্মৃতি রক্ষায় সভায় যোগ দেন।
এসএইচ





