সভা-সমাবেশ আর জনসংযোগের মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন। ঈদের পর বিরোধী জোটের বহুল আলোচিত আন্দোলন শুরুর প্রাথমিক প্রস্তুতি এরইমধ্যে চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতা ও জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু দলের মহাসচিব এই মূহুর্তে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় সেই বৈঠকগুলো আগামী সপ্তাহে হতে পারে। সে বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে আগামী আন্দোলনের ছক। প্রণয়ন করা হবে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি এক গুচ্ছ সিরিজ কর্মসূচি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ঘোষণা করা হবে সেসব কর্মসূচি।

তবে ঈদুল আজহার আগে কোনো কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে চায় না বিরোধী জোট। তবে সরকার নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বাধা দিলে যে কোনো কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত থাকার জন্যও নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হবে।

আগামী দুই থেকে আড়াই মাস দলের বিভিন্ন শাখা ও অঙ্গদলগুলোর পুনর্গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করার পরই সরকার পতনের একদফা কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তার আগে জনসচেতনা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশবাসীকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে আরও সম্পৃক্ত করতে চায় বিএনপি। সেরে নিতে চায় চূড়ান্ত আন্দোলনের ওয়ার্মআপ। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। তাই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

এ ব্যাপারে ঈদের পরদিন নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করেই সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হবে। ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। তাই ঢাকার আন্দোলনের দিকে সবার নজর রয়েছে। এবারের আন্দোলনে ঢাকা মহানগর নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকবে সবচেয়ে বেশি।

এদিকে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেছেন, আমরা বারবার বলে আসছি যে, আন্দোলন হবে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। তবে সরকার বাধা দিলে সেটা সহিংস রূপ নিলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে শিগগিরই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও মহিলা দল পুনর্গঠন করা হবে। বিএনপি সূত্র জানায়, পবিত্র ওমরাহ পালনকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সম্ভাব্য নতুন কমিটির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগস্টের মধ্যেই এসব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও এখনই রাজপথ দখলে যেতে চায় না বিরোধী জোট। বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান,আন্দোলন শিগগিরই শুরু হবে। তবে মূল আন্দোলন হবে ঈদুল আজহার পর। এজন্য প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অনশন ও শান্তিপূর্ণ গণমিছিল কর্মসূচি আসতে পারে। এছাড়া ঢাকার বাইরে কয়েকটি জেলায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন বিরোধী জোট নেতা খালেদা জিয়া। সেসব জনসভায় সরকারের নানা ব্যর্থতা ও অনিয়মের কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপশি নতুন করে আল্টিমেটামও দিতে পারেন তিনি।

এভাবে ঈদুল আজহার আগে সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে রাজধানীতে একটি মহাসমাবেশ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে মহাসমাবেশ থেকে ঈদুল আজহার পর চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচিসহ ঘোষণা দেয়া হতে পারে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী দুই মাস গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পার করতে চায় বিএনপি।

ঢাকা, এমএইচ, ০৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ