ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে আকস্মিক বন্যায় নেত্রকোনার কালিজুড়ী উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বুধবার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রান সহায়তা প্রদান করেন। এসময় কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক হাসনাইন আহমেদ, মোমেনশাহী শহর সভাপতি খন্দকার আবু হানিফ, নেত্রকোনা জেলা সভাপতি মোঃ আবু ইউসুফ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় শিবির সভাপতি বলেন, ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে আকস্মিক বন্যা হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনকে দূর্বিষহ করে দিয়েছে। বন্যায় ফসলের যে সিমাহীন ক্ষতি হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ফসল তোলার ঠিক আগ মুহুর্তে এই বন্যা হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সব কেড়ে নিয়েছে। অপরদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির প্রভাবে হাওরের সব মাছ মরে ভেসে উঠছে, একইভাবে মরছে হাস সহ পশুপাখি। হাওর অঞ্চলের মাছ ও গোবাদি পশুপাখির ব্যাপক মৃত্যু যথার্থভাবেই পরিবেশ বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করে। ইতিমধ্যে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে দূষণকারী কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকতে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু সরকার সময়ক্ষেপন করে শুধুমাত্র আণবিক শক্তি কমিশনের মাধ্যমে দায়সারা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই সাথে এই বিশাল অঞ্চলের বিপদ গ্রস্থ মানুষের জন্য সরকার তেমন কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। ফলে মানুষের দূর্দশা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে ছাত্রশিবির সাধ্যমত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছে। ছাত্রশিবিরের এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সাথে আমরা সরকারের প্রতি আহবান রেখে বলতে চাই, হাওরের এই অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে দ্রæত ক্ষতিগ্রস্থদের সার্বিক সহযোগিতা ও পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। হাওর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধঁ নির্মানে দুর্নীতি হয়েছে কিনা? তা খতিয়ে দেখে দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একইসাথে, হাওরের পানি কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের দ্বারা দূষণ হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করতে দেশের খ্যাতনামা পরিবেশ বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি হাওর অঞ্চলের মানুষ ধৈর্য্য ও সাহসিতা দিয়ে এ সমস্যা মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।