রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসনি দালানের বোমা বিস্ফোরণে বিএনপি-জামায়াত মদদ দিতে পারে বলে বলে দাবি করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
দলটির দাবি, দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, দেশের অগ্রযাত্রাকে যারা ব্যাহত করতে চায়, তারাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
আজ শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এসব কথা বলেন।
জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আগামী ২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় সমাবেশকে সামনে রেখে এ যৌথসভা হয়।
হোসনি দালানে বোমা বিস্ফোরণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এ ঘটনার বেনিফিশিয়ারি কারা? প্রত্যেকটা ঘটনার পেছনে একটা উদ্দেশ্যে নিহিত থাকে। সে উদ্দেশ্যেটা কী, মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে কেন? যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তারা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে মদদ দিতে পারে। তাদের যোগসূত্র থাকতে পারে। যেটা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে। সেই শক্তি কারা? এটা দেশবাসী জানে, আপনারাও জানেন। তারা হলো জামায়াত-বিএনপি।’
বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বাংলাদেশ ঘনবসতির দেশ। এই ছোট্ট ভূখণ্ডের মধ্যে ১৬ কোটি মানুষের বাস। পৃথিবীর উন্নত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে পরিচালনা করা হয়। সেখানেও তো এ রকম বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। সেখানে কী বলা যাবে, এটা সরকারের ব্যর্থতা?’
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা নিরসনে কঠোর আইন প্রয়োগ হবে। জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে। অশুভ তৎপরতাকে যারা জড়িত, তাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই হানিফ হোসনি দালানের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, তাজিয়া মিছিলের পূর্বেই এক বোমা-গ্রেনেড হামলায় একজন নিহত ও ৫০ জনের বেশি আহত হয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দোষীদের খুঁজে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাই।
এরপর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচির ঘোষণা করেন হানিফ। তিনি বলেন, জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আগামী ৩ নভেম্বর ভোর সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবনসহ দেশের সব জেলা-উপজেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো ব্যাজ ধারণ করা হবে। সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। সাতটা ৪৫ মিনিটে ১৫ আগস্ট নিহত ও জাতীয় তিন নেতার কবরে এবং রাজশাহীতে এ এইচ এম কামরুজ্জামানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। পরে তাঁদের রুহের মাগফিরাতের কামনায় দোয়া করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ২ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় সফরে নেদারল্যান্ডস যাওয়ায় ৩ নভেম্বরের পরিবর্তে ২ নভেম্বর বিকেলে সমাবেশ করা হবে বলে জানান।
এর আগে মাহবুব উল আলমের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে যৌথসভা হয়। এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইআর





