বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মোবারক হোসাইন বলেছেন, সরকার জামায়াত নির্মূলের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে গ্রেফতার করেছে।
কিন্তু অতীতে যারাই ইসলাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করেছে তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
তিনি সরকারকে অপরাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আটক নেতাকর্মী নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখী হবে।
তিনি আজ রাজধানীতে নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পওয়ারসহ ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন।
বিক্ষোভ মিছিল মোহাম্মদপুর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন ও মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য শেখ শরীফ উদ্দীন আহমদ, এ্যাড. জসিম উদ্দীন সরকার, মুসতাফিজুর রহমান ও নূরুল ইসলাম আকন্দ, শিবিরের ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম, অফিস সেক্রেটারি জোবায়ের হোসেন, ছাত্রনেতা বখতিয়ার সিদ্দিকী, দারুসসালাম থানা সেক্রেটারি আহমদুল্লাহ ও আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান প্রমূখ।
মোবারক হোসাইন বলেন, সরকার পাতানো ও ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে জামায়াতসহ বিরোধী দলের উপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। তারা জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে নিজেরাই জননিরাপত্তায় বিঘ্নসৃষ্টি করছে।
রাজপথে সভা-সমাবেশ সাংবিধানিক অধিকার হলেও সরকার তা করতে দিচ্ছে না। এমন কী তারা ঘরোয়া বৈঠকগুলোকে গোপন বৈঠক আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে কথিত রিমান্ডের নামে নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে বছরের পর বছর কারাগারে আটক করে রাখছে। যা সভ্যতার ইতিহাসে নজীরবিহীন।
তিনি বলেন, সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতেই সারাদেশে জামায়াতসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করছে। সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক মুজিব ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে গ্রেফতার করেছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে বোমা বহনের কল্পকাহিনী রচনা করে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে নাজেহাল করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন স্বৈরাচারী ও ফ্যাসীবাদী শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আর আওয়ামী লীগেরও হবে না বরং একদিন তাদেরকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
যাত্রাবাড়ী:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান বলেছেন, সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়েই বিরোধী দলের উপর দলন-পীড়ন চালাচ্ছে।
সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও সহকারি সেক্রেটরি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে ও গ্রেফতার করে জামায়াতের অগ্রযাত্রা রোধ করা যাবে না।
তিনি সরকারকে জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করে অবিলম্বে অধ্যাপক মুজিব ও অধ্যাপক পরওয়ারসহ আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় সরকারের জন্য করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
তিনি আজ রাজধানীতে নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পওয়ারসহ ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ী জোন আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন।
বিক্ষোভ মিছিল জুরাইন দয়াগঞ্জ নতুর রাস্তা থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য হাফিজুর রহমান ও আবু ফতেহ, যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানা সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম, শ্যামপুর থানা সেক্রেটারি অধ্যাপক এন আহমেদ, শিবিরের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি রিয়াজ উদ্দীন, জামায়াত নেতা মাহফুজুর রহমান, আব্দুর রহীম, মাওলানা তাজ উদ্দীন, আসাদ্জ্জুামান রাসেল ও মহিউদ্দীন প্রমূখ।
এসএইচ





