যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর সারাদেশের দলীয় নেতাদের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে দলের একটি নির্ভরশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তারেক রহমানের চিঠিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন তৃণমূলের নেতা কর্মীরা।

দেশে যখন চলছে মিছিল মিটিংহীন ইফতার রাজনীতি, ঠিক সেই সময়টিতে তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের জানাচ্ছেন ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। সেই সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে কর্মীদের চাঙ্গা করছেন।

সবুজ জমিনের ওপর শুভ্র মিনার অঙ্কিত ঈদকার্ডে তারেক রহমান লিখেছেন, “গণতন্ত্রহীন দুর্বিষহ অন্ধকারে নিমজ্জিত বাংলাদেশ। শকুনির হিংস্র থাবায় রক্তাক্ত প্রিয় মাতৃভূমি। ইনশাআল্লাহ, আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের মাধ্যমে অচিরেই কেটে যাবে অন্ধকার, ফুটবে আলো, প্রতিষ্ঠিত হবে কাক্সিক্ষত গণতন্ত্র ও সুশাসন। এ প্রত্যাশায় আপনার ও আপনার পরিবারের প্রতি রইল পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা এবং আপনার মাধ্যমে ঈদ শুভেচ্ছা রইল আপনার এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতি। ঈদ মোবারক।”

দীর্ঘ চিঠিতে তারেক রহমান ‘শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতি-দুঃশাসন-হত্যার চিত্র’ তুলে ধরেছেন। চিঠিতে শেখ হাসিনাকে ‘গণতন্ত্রের শত্রু এবং মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, “ঘোর ঘন অমানিশায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন নেই, নেই সামাজিক ন্যায়বিচার। জানমালের নিরাপত্তা নেই।  শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশজুড়ে চলছে খুনি কাপালিকদের উল্লাস। লুটেরা দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসীদের রাজত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য এখন মানুষ খুন করছে টাকার বিনিময়ে। পবিত্র ঈদের দিনটিতেও পরিবারের সঙ্গে আমার মতো আপনাদের অনেকেই ঠিকমতো আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন কি না সেটি নিয়েও অনেকেই উদ্বিগ্ন। গণতন্ত্রের শত্রু মিথ্যাবাদী শেখ হাসিনা গোটা বাংলাদেশকে পরিণত করেছেন কয়েদখানায়।”

চিঠিতে তারেক রহমান বলেছেন “মাতৃভূমি বাংলাদেশ এখন অসহায়। খুনি-লুটেরা, সন্ত্রাসী, সোনা চোরাকারবারী আর বিদেশে অর্থপাচারকারীদের নেতা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দেশের টাকা লুট করে সুইস ব্যাংকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করছে শেখ হাসিনা ও তার বাহিনী। শুধুমাত্র সুইস ব্যাংকের হিসাব মতোই আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীরা ২০০৯ সাল থেক এই পর্যন্ত প্রতি বছর তিন হাজার কোটি টাকা করে সুইজারল্যান্ডে পাচার করেছেন।  শুধু তাই নয়, ইউরোপ আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শত শত বিলাসবহুল বাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। অবস্থা এতটাই ভয়ঙ্কর, খোদ শেখ হাসিনা বাহিনীর সদস্যরা পর্যন্ত তাদের পাতানো সংসদে বলতে বাধ্য হয়েছেন, পাচারের টাকায় কানাডায় গড়ে উঠেছে বেগমপাড়া।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান দলের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রথম যুগ্মসাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে দলের যেসব নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন তাদের প্রতিটি পরিবার এবং উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানদের কাছে একটি ঈদকার্ড এবং একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

তারেক রহমান স্বাক্ষরিত এই চিঠি এরই মধ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে।

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা বিরোধী অন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেয়া চিঠিটি একটু ব্যতিক্রম। এই চিঠিটিতে তারেক রহমান লিখেছেন,  “শেখ হাসিনার দুঃশাসনে কেউ ভালো নেই। আপনারা হারিয়েছেন বাবা-মা ভাইবোন কিংবা আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব। হারিয়েছেন ঘরবাড়ি। নষ্ট হয়েছে আপনাদের অর্থসম্পদ। আপনাদের এই নির্মম যাতনার কথা আমি বুঝি। কারণ শেখ হাসিনার প্রতিহিংসায় আমিও হারিয়েছি আমার পিতা বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানের দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়ি, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে চলছে ধারাবাহিক অপপ্রচার।”

উভয় চিঠির শেষ প্যারায় তারেক রহমান আরো লিখেছেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে জনগণ নেই। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন এই অবৈধ হাসিনা সরকারের পতন ঘটবে। আপনারা সোচ্চার থাকুন। দেশ বাঁচাতে মানুষ বাঁচাতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন। ইনশাআল্লাহ আমাদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে কাটবে আঁধার, ফুটবে আলো। সেই সোনালী ভোরের প্রত্যাশায় আপনাকে এবং আপনার পরিবারের সবাইকে ঈদ মোবারক।”

এদিকে ঈদের পরই আন্দোলনের ডাক দেয়ার কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে তারেক রহমানের এই চিঠি। দলীয় সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, এইবারের আন্দোলন চূড়ান্ত সফলতার দিকে নিয়ে যেতে চায় বিএনপি জোট।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ দাবি মেনে নেবে না। সুতরাং আন্দোলনের বিকল্প নেই। এখন জনগণের মধ্য থেকেই সরকার বিরোধী কঠোর আন্দোলনের দাবি উঠেছে। এই কারণেই বিএনপি ঈদের পরই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: শীর্ষ নিউজ

ঢাকা, ১২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ