করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে পরামর্শ দেয়ার জন্য একটি জাতীয় ট্রাস্কফোর্স গঠনের জন্য পুনরায় প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রস্তাব দেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিশিষ্ট চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী সশস্ত্র বাহিনী, অন্যান্য বাহিনীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করে ট্রাস্কফোর্সের মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
সরকারের অর্থনৈতিক প্যাকেজ সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, সব মিলিয়ে ১৬১০ কোটি টাকার সরকারি কোষাগার থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে। এর সাথে ব্যাংক ঋণের তিন হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি যোগ করে প্রণোদনা দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। এটাই মূলত প্রণোদনা। ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজটি শুভঙ্করের ফাঁকিমাত্র। ৪ হাজার ৬১০ কোটি টাকা জিডিপির ০.১৬ শতাংশেরও কম।
দিন আনে দিন খায় যে শ্রেণীর মানুষ তারা এই মুহূর্তে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই প্যাকেজে তাদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে মাত্র ৭৬০ কোটি টাকা। বিএনপির এই খাতে ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করেছে। কেননা এরা সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এদের জরুরি আর্থিক সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে দক্ষ জনবল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, কৃষকদের আসছে মৌসুমে মিনিমাম সাপোর্টমানি প্রদান, দিনমজুরদের খাবার তুলে দেয়ার লক্ষ্যে ছয় মাসের আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব দেন বিএনপি মহাসচিব।
বিতরণ কাজের দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যবহার না করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্প, মৎস্য, ডেইরি, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ইত্যাদি সেক্টরে কোষাগার থেকে আর্থিকমূল্য মূলক প্যাকেজ ঘোষণা করা হোক। বাণিজ্যিক ব্যাংকে ডিপোজিটেট মানি নয়, ব্যাংক গ্রাহক সংখ্যা ভিত্তিতে নয়, জাতীয় ট্রাস্কফোর্সের মাধ্যমে বণ্টনের আমরা সুপারিশ করছি।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করার দাবি উত্থাপন করেন।





