বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ দলে না থাকায় দল সংকটে পড়েছে। তবে দলকে কষ্ঠিপাথরের ন্যায় জিয়ার আদর্শবানদের দিয়ে দলপুন:গঠন করলে জেগে উঠবে।


মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে জিয়া পরিষদ নামের একটি সংগঠন।

তিনি বলেন, দলের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে সত্যিকার ভাবে যদি জিয়ার রহমানের আদর্শকে ধরে রাখা যায় তাহলে বিএনপি আবার ঘুরে দাড়াতে পারবে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বাকশাল গঠন করার পর দেশে সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা ছিলনা। সব পত্রিকা বন্ধ করে মাত্র ৪ টি পত্রিকা ছিল। জিয়াউর রহমান সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিকভাবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি কখনও দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করেননি।
তিনি বলেন, সাংসদপুত্র নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে। গুলি করেও ক্ষমতার জোরে সে আবার বলছে তার মায়ের হাত অনেক বড়, তাকে কেউ কিছু করতে পারবেনা। এতে বঝা যায় দেশে বর্তমানে চরম দুর্বৃত্তায়ন চলছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে দেশের সংকট হচ্ছে দুর্নীতি। এই সরকারের অনেক অর্জন আছে। অনেক ব্যর্থতাও আছে। তাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হল দুর্নীতি রুখতে না পারা। দেশের সমস্ত সম্পদ দুর্নীতির মাধ্যমে অন্যদেশে নিয়ে যাবে এটা কখনই হতে পারেনা। আমরা এর প্রতিকার চাই। এসময় সেকেন্ড হোম রীতিরও সমালোচনা করেন তিনি।

জিয়াউর রহমান সম্পর্কে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ ই নভেম্বর সিপাহী জনতার বিদ্রোহের ফলে দেশে কয়েকদিন সরকার ছিলনা। সেসময় দেশে এক সংকটের তৈরি হয়েছিলো। তখন জিয়াউর রহমান সেই সংকট থেকে জাতীকে মুক্ত করেছিলেন।

দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকেরা সৈনিকের মত লড়াই করে যাচ্ছেন অনেক ঝুকি নিয়ে। প্রত্যেক সাংবাদিকরাই যে কোন সময় সাগর-রূনির মত পরিস্থিতির স্বীকার হতে পারে। তারপরেও তারা সৈনিকের মত লড়াই করে যাচ্ছেন।

নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, তার সফরকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে সমস্যা ইতিপূর্বে অনেকেই এই সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছে কিন্তু কেউই সফল হতে পারেনি। অবসেশে মোদি ক্ষমতায় এসে সেই সমস্যার সমাধান করতে পেরেছেন। তাই তাকে আমরা অভিনন্দন জানাই।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই সফরে এই সমস্যা সমাধান না হলেও আমরা আশায় বুক বেধে থাকবো যেন পরবর্তীতে এই সমস্যার সমাধান হয়।  
 
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহকারী মহাসচিব আব্দুল্লাহ মাসুদ, ঢাকা মহানগরের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
এমএইচ