প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পাটশিল্প ধ্বংস করে দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় পাট দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সংসদে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা সত্ত্বেও পাটকল বন্ধের শর্তে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিল বিএনপি। ফলে পাটের বাজার হারায় বাংলাদেশ, এতে সমৃদ্ধ হয় ভারতের পাটশিল্প।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জানান, পাটশিল্পের উন্নয়নে কৃপণতা করেনি বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, ‘পাট কারখানা সচল রাখতে তিনি হাজার কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করেছে তাঁর সরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯১ সালে পাটশিল্পটাকে তারা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সাথে একটা চুক্তি করল সেই চুক্তিটা ছিল গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে সব শ্রমিককে চাকরি থেকে বিদায় দিয়ে দেবে আর ৯৩ সাল থেকে পাটকলগুলো একে একে বন্ধ করবে।

এর ফলাফলটা ছিল যে আড়াই লাখ বেল পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। আর ঠিক ভারতের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের চুক্তি হলো তারা টাকা পেলে ভারত পাটকল তৈরি করবে আর ওই আড়াই লাখ বেল পাট রপ্তানি করার সুযোগ পাবে। এর ওপর ক্ষোভ তো পাকিস্তানিদের ছিল, বিএনপির ক্ষোভ এলো কেন? জামাতিদের ক্ষোভ এলো কেন? কারণ তাদের হৃদয়ে আছে পেয়ারা পাকিস্তান।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিল্পমন্ত্রী বানিয়েছিল জামায়াতের নেতাকে। একবার শিল্পমন্ত্রী আরেকবার কৃষিমন্ত্রী। কৃষিও ধ্বংস,শিল্পও ধ্বংস। তাঁরা তো ধ্বংস করবেনই। কারণ তাঁরা তো দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেননি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পাটকলগুলোর তিন হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ ছিল। তা মওকুফ করে দেওয়া এটা কিন্তু আমরা করে দিয়েছি। বিরাট বোঝা ছিল তা লাঘব করে দিয়েছি। তা সচল রাখার দায়িত্ব শ্রমিক ও কর্মচারীদের। তবে একটা সমস্যা আছে, যন্ত্রপাতিগুলো অত্যন্ত পুরোনো। মেশিনারিজগুলো সব বদলাতে হবে।’

এএস