বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, দুঃশাসকের নির্যাতন নিপীড়নে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে পিছনে নয়,সামনে এগিয়ে যেতে হয়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এতে জনতারই জয় হয়।
তিনি আজ ৬ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের উদ্যোগে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
এসময় আব্দুল্লাহ আল নোমান আরো বলেন, বর্তমান সরকার সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের এমনকি সাধারণ সমর্থক ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি জুলুম নির্যাতন শুরু করেছে। তাতে দেশের মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। সরকারের এই আচরণ স্বৈরাচারী শাসনের শেষ রূপ। এই রুদ্ধ:শাস পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দেশের আপামর জনগণ লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে আসলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কোন শক্তি থাকে না। তিনি বলেন, এই চট্টগ্রাম হচ্ছে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা পুরুষ মাস্টারদা সুর্যসেন, কাজেম আলী মাস্টার ও মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর চট্টগ্রাম। এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই চট্টগ্রাম থেকেই স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। চট্টগ্রাম থেকে আন্দোলন শুরু হলেই পরিবর্তন হয়।এই চট্টগ্রাম থেকেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে আমি আপনাদের পাশে আছি।
নোমান বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের যে জিকির তুলেছে তাতে সরকারী দলের মন্ত্রী এমপি ও নেতাদের সহায় সম্পদ ও আর্থিক উন্নয়ন ঘটেছে। এ উন্নয়ন দুর্নীতিরই আরেক চিত্র। সরকারী দলের নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশব্যাপি ব্যাংকিং হাতে ব্যাপক লুটপাট চলছে। এ আর্থিক দুর্নীতি সামাল দিতে সরকার দফায় দফায় গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বর্তমান সরকার সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত গায়েবী মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ৫ জানুয়ারী মার্কা আর একটি নির্বাচন করার যে নীল নকশা প্রনয়নের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদেশের গণতন্ত্র প্রিয় জনগণ তাদের সেই খায়েশ পূরণ হতে দেবে না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, কারাগারে আটক রাখার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রায় প্রদান করা হয়েছে তা অন্য জায়গা থেকে এসেছে। দেশের জনগণ এ রায় মানে না। এ মামলায় যারা বাদী এবং রায় প্রদানের নির্দেশদাতা আগামীতে তাদেরকে দেশের মানুষ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে এদেশের শ্রমিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান সরকারের লুটপাটের কারণে দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে সাধারণ জনগণ ও শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, হামলা, মামলা জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের হয়রাণী করা হচ্ছে। হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসার পরও নিম্ম আদালতে জামিন না মঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সরকারী নির্দেশে এ ধরনের আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও বিভাগীয় শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শেখ নুর উল্লাহ বাহারের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বেগম রোজী কবীর, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এডভোকেট আবদুস সাত্তার, এম এ হালিম,এডভোকেট আবদুস সাত্তার সরোয়ার, এস এম আবুল ফয়েজ, জাহিদুল করিম কচি,যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, সহসাধারণ সম্পাদক সামশুল আলম, নগর শ্রমিক দল সভাপতি তাহের আহমদ, উত্তর জেলা শ্রমিক দল সভাপতি মোহাম্মদ কামাল পাশা,প্রচার সম্পাদক সিহাব উদ্দিন মবিনসহ প্রমুখ।
ও এফ এম মাসুম/এসএম





