মেধাসম্পদ সৃষ্টি ও সুরক্ষায় শীঘ্রই জাতীয় মেধাসম্পদ নীতি প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
মেধাসম্পদের জায়গায় আমাদের জ্ঞানের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেখান থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে বলেও জানান তিনি।
২৬ এপ্রিল বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস-২০১৫ উপক্ষে রবিবার আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সঙ্গীতের চেতনায় জেগে উঠুন’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)।
আমির হোসেন আমু বলেন, ‘মেধাসম্পদ সৃষ্টি ও সুরক্ষায় শক্তিশালী জাতীয় নীতিমালা ও কৌশল প্রয়োজন থাকলেও দীর্ঘদিন বিষয়টি উপেক্ষিত ছিলো। কিন্তু বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থার সহায়তায় ইতোমধ্যে জাতীয় মেধাসম্পদ নীতির খসড়া তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে শীঘ্রই এটি চূড়ান্ত করা হবে।’
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে মেধাসম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘মেধাসম্পদের একটি বিষয় সঙ্গীতকে এবছর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সঙ্গীত একটি সৃজনশীল মেধাসম্পদ। এর সাথে গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীরা জড়িত। তাদের সম্মিলিত প্রতিভার ফলে সাধারণ মানুষের মননশীলতাকে সমৃদ্ধ করে।’
আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনসহ জাতি গঠনে সঙ্গীতের ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
‘মেধা সম্পর্কে একসময় বায়বীয় ধারণা থাকলেও, মেধা কথাটি এখন একটি বাস্তব এবং বস্তুবাদি শব্দ’ উল্লেখ করে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘প্রতিভা সম্পর্কে বিশ্বব্যপী ধ্যান ধারনা পরিবর্তন হয়েছে। এটি এখন অর্থনীতিতেও বিশাল অবদান রাখছে। মেধা এখন অর্থনৈতিক সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
‘সঙ্গীত এখন শুধু বিনোদন নয় এর মধ্যেও অর্তনৈতিক কর্মকান্ড চলছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের পর্যাপ্ত লোকবল এবং আর্থিক সংকটের কারণে সঙ্গীতে পুরোপুরি আইনি সুরক্ষা দিতে পারছে না। এই সৃজনশীলতাকে সুরক্ষা দিতে না পারলে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়, এর সাথে জড়িতরাও ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে কিভাবে মেধাসম্পদকে বিকশিত করতে পারি এবং এর সুরক্ষা প্রদান করা যায় সেদিকে আমাদের নজর দেওয়া উচিৎ। সঙ্গীতে কপিরাইট আইনকে যথাযথ প্রয়োগের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত লোকবল এবং অর্থবল প্রয়োজন।
সেমিনারে ‘সঙ্গীতে মেধাসম্পদ অধিকার সংরক্ষন : প্রেক্ষিত বাংলোদেশ শর্ষক’ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের চেয়ারম্যান বেগম শাহনাজ নাসরিন ইলা।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, এফবিসিসিআই এর সভাপতি কাজী আকরাম্ উদ্দিন আহমেদ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভরপ্রাপ্ত সচিব মো. ফরহাদ উদ্দিন প্রমুখ।
এমএ/এসএইচ





