আওয়ামী লীগ দেশটাকে খেয়ে ফেলছে এমন মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এরা বেশিদিন ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকে থাকবেনা। তাই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আন্দোলনের ডাক আসলে রাজপথে নেমে আসতে হবে। যেকোনো সময় আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ছাত্র ঐক্যের কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষে এ কনভেনশনের আয়োজন করে '৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।
তিনি বলেন, '৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তোমরাই ছিলে আমার শক্তি ও সাহস। এখন আমার বয়স হয়েছে, তোমাদেরও বয়স হয়েছে। তবে বয়স হলে কি হবে সাহস এখনও আছে। আর সাহস থাকলে বিজয় আমাদের হবেই। তোমাদের এখন জনগণের কাছে যেতে হবে। তাদেরকেও আগামী দিনের আন্দোলনে শরিক করতে হবে। তখন শুধু ঢাকা নয় সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে এ সরকারকে পতন ঘটিয়ে দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করবো।
গুলি, বন্দুক, টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে ছাত্র, যুবক, বৃদ্ধদের রাজপথে নেমে আসার আহবান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার রাজপথ খালি যাবে না। এবার যদি সরকার পুলিশ দিয়ে গুলি চালায় তাহলে তার জবাব দিতে জনগণ প্রস্তুত। তবে শেখ হাসিনার বাবা পাকিস্তানিদের বলেছিলেন একটা গুলি চললে পাল্টা গুলি চলবে আমরা তা বলি না আমি বলবো আর একটা গুলিও যেন না চলে।
খালেদা জিয়া বলেন, তারা আমাদেরকে নিয়ে বলতে বলতে এখন মুখ আর সামলাতে পারছেনা। বিদেশিদেরকে নিয়েও আজে বাজে মন্তব্য করে বসছে। তাই আগে আপনাদের মুখ সামলান।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দিতে চায়। যাতে করে তারা রামাপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে। এজন্যই ফার্নেস ওয়েলের ট্যাংক-লরি ডুবিয়ে দিয়ে সুন্দরবনের পরিবেশকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনার নামে ১৫টি মামলা করা হয়েছিল কিন্তু সবগুলোই প্রত্যাহার করা হয়েছে। মিগ-২৯ ছিল একটি পুরানো বিমান। এটিকে দুর্নীতি করে নতুন দামে ক্রয় করা হয়েছিল। এ মামলায় হাসিনার সাজা হতো। তাই আমাদের মামলাগুলো চললে শেখ হাসিনার নামে মামলাগুলোও চলতে হবে।
তিনি বলেন, ৮০ জনকে ওএসডি করা হয়েছে বিএনপি করার অপরাধে। সবাই যদি বিএনপি করে তাহলে জোর করে আপনাদের ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন কি? এখন আবার চাকরি থেকে বাদ দেয়ার জন্য বলছে। অফিসারেরা নাকি আমার সাথে বৈঠক করেছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আপনার সময় ফুরিয়ে আসছে তাই গোয়েন্দারাও আপনাকে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।
আমিও বাংলাদেশের নাগরিক তারাও বাংলাদেশের নাগরিক। আমার সঙ্গে তারা দেখা-সাক্ষাত করতেই পারে। এতে দোষের কিছুই নেই। তবে আমার সঙ্গে তাদের কোনো বৈঠক হয়নি। আমার উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক হয়। কিন্তু আপনি (শেখ হাসিনা) যখন বিডিআরের বিদ্রোহীদের চায়ের দাওয়াত দেন, তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তখন কোনো সমস্যা হয় না।
শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি (হাসিনা) নিজের মুখ সামলান। নিজের ভাষা ঠিক করেন তাহলে দেশের মানুষ শান্তি পাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকবে।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নামে মামলা চালাতে হলে শেখ হাসিনার নামের প্রত্যাহার করা মামলা পুনরায় চালাতে হবে। হাসিনার নামে যেসব মামলা ছিল সাজা হবার ভয়ে আগেই প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
র্যাবের বিলুপ্তির দাবি পূর্নব্যক্ত করে তিনি বলেন, র্যাব এখন খুনি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কর্নেল জিয়া মূল হত্যাকারী। সে হয়তো বলবে চাকরি করার কারণে কারো নির্দেশে হত্যা করেছেন। তাহলে তিনি বলে দিলেই হয় কার নির্দেশে হত্যা করেছে। কারণ দেশের জনগণ তা জানতে চায়।
কনভেনশনে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, আসাদুজ্জমান রিপন, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবীব-উন-নবী খান সোহেল, বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সাবেক ছাত্র নেতা কামরুজ্জামান রতন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আজিজুল বারী হেলাল, সাইফুদ্দিন মনি, আসাদুর রহমান আসাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ।
কনভেনশনে সারাদেশ থেকে তৎকালীন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি, জিএস ও জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
এমএইচ/কেএইচ





