আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ও ধর্ষণ-অপহরণ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, "দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। প্রতিদিনই ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। নিজ সহকর্মীদের হাতে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারী সহকর্মীগণ।"
তিনি বলেন, গত ১৩ জুন রাজধানী ঢাকার তুরাগ থানার এক নারী পুলিশ সদস্য গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। রামপুরা থানায় এক গৃহবধূ ধর্ষিতা হয়েছে। আজ ১৪ জুন মোহাম্মাদপুর থানায় অপর এক গৃহবধূ পুলিশের হাতে ধর্ষিতা হয়েছে। এ সব ঘটনার দ্বারাই প্রমাণিত হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের জানমাল-ইজ্জত-আবরুর আজ কোন নিরাপত্তা নেই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ যখন তার সহকর্মী মহিলা পুলিশকে ধর্ষণ করে এবং সাধারণ নারীদেরকে ধর্ষণ করে তখন মানুষ কার কাছে জানমাল-ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তা চাইবে? কে মানুষকে জানমালের নিরাপত্তা বিধান করবে?
এক বেসরকারী জরিপের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গত ৪ মাসে সারাদেশে ১৫৮ জন নারী ধর্ষিতা হয়েছে এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৫৩ জন মহিলা। এক কথায় সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আমি সরকারের এ ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সরকার অন্যায়ভাবে জোর করে ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত রয়েছে। সরকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন চালানোর কাজে ব্যস্ত রেখেছে।
নারী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন এবং হত্যা-সন্ত্রাস বন্ধ করার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার বন্ধ করে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কাজে নিয়োজিত রেখে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এমকে





