দৈনিক জনকন্ঠে ‘শিবির ক্যাডাররা হঠাৎ উধাও, খুঁজছে গুয়েন্দারা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খবর প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারী জেনারেল মোবরক হোসাইন বলেন, একের পর এক নীতিহীন ও হলুদ সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করে চলেছে জনকন্ঠ। ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে কুৎসা রটনা করা নিজেদের রুটিনে পরিণত করে নিয়েছে দলীয় ভাবাপন্ন এই গণমাধ্যমটি।

প্রতিবেদন অত্যন্ত চাতুরতার সাথে কাল্পনিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শিবির সংশ্লিষ্ট হতে হলে ‘দাওয়াত প্রাপ্তি’ পদ নিতে হয়, পরে কর্মী ও সাথী হয়, সহিংসতার নেতৃত্ব দিয়েছে শিবির, শিবিরের সাথীরা ভয়ঙ্কর, সাথীরা কমান্ডার হিসেবে কাজ করে ইত্যাদি। এই প্রতিবেদটি যে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও প্রতিবেদকের মনগড়া তার প্রমাণ প্রতিবেদনেই আছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত দাওয়াত প্রাপ্তি বা কমান্ডার বলতে কোন পদ ছাত্রশিবিরে নেই।

একই সাথে সহিংসতার নেতৃত্ব, সাথীরা ভয়ঙ্কর এসব বিষয়ও প্রতিবেদকের বিকৃত মস্তিস্কের উদ্ভট আবিস্কার ছাড়া কিছু নয়। প্রতিবেদনটির এক জায়গায় বলা হয়েছে, "ছাত্রশিবির জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদেরকে সহায়তা করছে", যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অতীতেও অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে সরকার কিছু দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তা ও হলুদ মিডিয়ার মাধ্যমে ছাত্রশিবিরকে জঙ্গিবাদের সাথে জড়াতে চেয়েছে। কিন্তু বরাবরই তারা ব্যার্থ হয়েছে। কারণ, ছাত্রশিবির জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে না। শুধুমাত্র দলীয় ও আদর্শিক বিদ্ধেষপূর্ণ মনোভাব থেকে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে এই কুৎসা রটনা করেছে প্রতিবেদক। আর জনকণ্ঠ  কর্তৃপক্ষও একই মনোভাব থেকেই তা প্রকাশ করেছেন।   

নেতৃবৃন্দ বলেন, জনকণ্ঠের পুরো প্রতিবেদনটির ভাষা সম্পূর্ণ অপেশাদার, আক্রমনাত্মক ও বিদ্বেষপূর্ণ। ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই দেশের ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শিবির বরাবরই শ্রদ্ধাশীল। সুতরাং কোন প্রকার সন্ত্রাসী বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কর্মকান্ডের সাথে ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার প্রশ্নই আসে না। বরং জনকণ্ঠের মত কিছু গণমাধ্যম সাংবাদিকতার লেবাসে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। আমরা বলব, জনকন্ঠের বিতর্কিত অবস্থান জনগণের কাছে পরিস্কার। সুতরাং এমন নির্জলা মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবেনা। উল্টো বুমেরাং হবে। এমন নির্লজ্জ অপপ্রচার অব্যাহত রাখলে জনগণের কাছে তাদের নীতিহীন অবস্থান আরও পরিস্কার হবে। 

নেতৃবৃন্দ এ ধরণের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।