সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের বুকের মধ্যে মিশে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার নাম ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য অতীতে ষড়যন্ত্র হয়েছে, এখনও সে ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সঙ্গে জিয়ার নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক সরকার যেখানেই রাখুক না কেন, শহীদ জিয়া এ দেশের মানুষের বুকের মধ্যে মিশে আছেন।’
এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।'
মঙ্গলবার বিকালে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত ‘গুমের শিকার স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ‘অনন্ত অপেক্ষা’ এই স্লোগানে ২০০৯-২০১৬ পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়া দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্ট ডকুমেন্টারি আকারে প্রকাশ করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। সেই জিয়ার স্বাধীনতা পদক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পদক কেড়ে নেওয়া হলেও তার প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা তা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’
তিনি বলেন, 'দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই। বর্তমানে বাংলাদেশ কারাগারে পরিণত হয়েছে। যেভাবে মানুষ গুম-খুন, ক্রসফায়ার হচ্ছে, তাতে সরকারকে একদিন হলেও জবাবদিহি করতে হবে।'
মিডিয়া 'অসহায়' হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'গণমাধ্যম সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।'
মির্জা ফখরুল বলেন, 'সরকার নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আর এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জঙ্গি ইস্যু।'
প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, 'বর্তমানে বলা হচ্ছে, জঙ্গিদের বিচার করতে কোনো আইন থাকবে না, তাদের আদালতেও নিয়ে যাওয়া হবে না। এ কেমন ভয়াবহ অবস্থা।'
এসএ





