ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, অভিন্ন নদীর পানি সমসার সমাধানে শুধু ভারতের সাথেই নয় সার্কভুক্ত সব দেশকে নিয়ে আলোচনা করে এর সমাধানের পথ বের করতে হবে। তবে এ জন্য সার্কভুক্ত আট দেশের সাথে জাতিসংঘকে সাক্ষী এবং বিশ্বব্যাংককে অংশীদার হিসাবে নিয়ে চুক্তি করতে হবে। কোনোভাবেই অভিন্ন নদীর পানি সমসার সমাধান দ্বি-পাক্ষিকভাবে সম্ভব না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলো পানি সমস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ায় এ নিয়ে কোনো যুদ্ধ হবে না।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আজ শনিবার ‘আন্তর্জাতিক পানি নীতি এবং বাংলাদেশের নদনদী’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন এমাজউদ্দীন আহমদ।
এতে এমাজউদ্দীন আহমদ আরো বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক চুক্তিতে এ দেশের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা পাবে না। অভিন্ন নদীর পানি বন্টনজনিত সমস্যার ভারত-বাংলাদেশ বা ভুটান-ভারত কিংবা নেপাল-ভারত এভাবে দ্বি-পাক্ষিকভাবে হবে না। তবে এই সমস্যা সমস্যা সমাধানে দেশে পানি বিশেষজ্ঞ তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, সাহসী এবং এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখে এমন বিশেষজ্ঞ নিয়ে অভিন্ন নদীর পানি সমস্যা নিয়ে আলোচনার টেবিলে ভারতকে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভারত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র হারিয়ে যাবে। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলাও বাংলাদেশ ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে পড়বে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, পানিসম্পদ রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য দরকার। এই ঐক্যে যাকে পাওয়া যাবে না তিনি দেশের পক্ষের লোক না। এই দেশপ্রেমিক শক্তি ঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারবে। কারণ আমরা বাংলাদেশের পক্ষে থাকতে চাই, কোনো দেশ বা কারো বিপক্ষে নয়।
কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বীরপ্রতীক বলেন, পানি বাঙরাদেশের বাঁচা মরার প্রশ্ন। ভারতের সাথে পানি সমস্যার সমাধানে দেশটির মর্জির ওপর নিভর করবে না। তবে এই সমস্যার একতরফা সমাধান সম্ভব না।
ইংরেজি অনলাইন দৈনিক গ্রিন ওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, ভারত বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়টির ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলির পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং ধারণা থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলিকে এব্যাপারে একমত হয়ে ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সোচ্চার হবে।
খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাকের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুব মোর্শেদ। বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, নায়েবে আমীর সৈয়দ মজিবুর রহমান প্রমুখ।
এএইচ





