বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন ‘মামলা দিয়ে হাসিনা আমাকে ভয় দেখাতে চায়। কিন্তু হাসিনা আমি ভয় পাই না। মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের আমলে আমাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ভয়ে আমি দেশ ছাড়ি নাই। সবাই জানে তখন কে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল।'

আজ (মঙ্গলবার) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মোহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ২০ দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘হাসিনা বহু অপরাধ করেছে। তার দলের লোকেরাও বহু অপরাধ করেছে। কিন্তু তাদের বিচার হয় না। উল্টো আমার দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গুম খুন করা হচ্ছে।’

‘সবকিছুর বিচার হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন, বিনা ভোটে ক্ষমতায় বসে একের পর এক অবৈধ আইন করছে সরকার। জনগণের টাকা লুট করছে। এক দিন জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতে হবে তাদের।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। বিদ্যুতের উৎপাদন নিয়ে জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। কুইক রেন্টালের নামে জনগণের টাকা লুট করছে সরকার।

আওয়ামী লীগ দলটি হল- ‘যা পাই তাই খাই। হাঁটি হাঁটি খাই খাই’ মন্তব্য করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

খুন, গুম, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং বিচারকদের অভিশংসনে ক্ষমতা বাতিলসহ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এর আগে, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসা থেকে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৩৩ মিনিটে খালেদা জিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান।

এদিকে, নিয়াজ মোহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুপুর থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। দুপুর আড়াইটা থেকে স্থানীয় নেতারা সভায় বক্তব্য রাখা শুরু করেন।

খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলীমা রহমান, অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা আবদুস সালাম, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী মেজর জেনারেল (অব) ফজলে ইলাহি আকবর, সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু, সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান রতন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান প্রমুখ।

এদিকে, জনসভা সফল করতে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমদ দু’দিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছেন। স্থানীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি সংবাদ সম্মেলন করে জনসভাকে সর্বাত্মক সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আমিনী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহিরুল হক খোকন, যুগ্ম-আহ্বায়ক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জিল্লুর রহমান, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, রফিকুল হক, অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার খোকন, সিরাজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের জেলা নেতা হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও ইসলামী ঐক্যজোটের জেলা সেক্রেটারি হাফেজ ইদ্রিস প্রমুখ।

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ