আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার অপরাধ আইন হচ্ছে। এটির কাজ খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আইনটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে আজ আমরা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতাদের যুক্তি শুনেছি। আইনটি নিয়ে আরো আলাপ-আলোচনার দরকার রয়েছে। যেখানে আলাপ করতে হবে সেখানে আলোচনা করে আমরা তা নির্ধারণ করব। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে আনিসুল হক বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা বলা হচ্ছে, তাতে এ ধরনের একটি আইনের দরকার হয়ে পড়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাউকে আমরা ফুটবল খেলতে দিতে পারি না। তাও একজন নেত্রীর মুখে।
যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আজকেও এক নেতা বলেছেন, তাদেরকে নাকি ৩০ লাখ শহীদের লিস্ট দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমি বলব, তারা ক্ষমতায় ছিলেন, তখন শহীদদের তালিকা করেননি কেন? আর কোথাও কোনো দিন এভাবে শহীদদের লিস্ট তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
তারা এভাবে আজগুবি কথাবার্তা বলে যাবে, আর আমরা শুনব, সেটা হতে পারে না। সবকিছু বিবেচনা করে মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার অপরাধ আইন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার অপরাধ আইনে কী ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শাস্তির বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।
পৃথিবীর অনেকগুলো দেশে এমন আইন রয়েছে। সেখানে কী রকম শাস্তির বিধান রয়েছে, তার কতটুকু যুক্তি রয়েছে। আর এখানে কতটুকু যুক্তি আছে, আমরা তা দেখব। আমরা আলোচনা মাধ্যমে আইন ঠিক করব।’
জামায়াত নিষিদ্ধের আইনটি কবে উঠছে, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াত নিষিদ্ধের জন্য আইন করা হচ্ছে না; এটি যদি বলা হয়, তাহলে আদালতের এখতিয়ারের ওপর হাত দেওয়া হবে। মূলত সংগঠনের বিচার ও শাস্তির বিধান রেখে আইনটি করা হচ্ছে। জামায়াত নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, তা আদালত বলবেন।’
তিনি বলেন, সংগঠনের বিচারের জন্য আইনটি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে।সাক্ষী সুরক্ষা আইনটি আগামী জুন মাসের মধ্যে সংসদে উঠতে পারে বলেও জানান আনিসুল হক।
তিনি বলেন, ‘এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আশা করি, এ বছরের জুন মাসের মধ্যে আইনটি সংসদে উঠতে পারে।’
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সংগঠনের সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়টি আসবে শাস্তির বিধান হিসেবে। ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেছেন, আমি তার সঙ্গে আলোচনা করব। সবকিছু দেখেশুনে বাস্তবতার নিরিখে আমরা একটি আইন করব।’
এ সময় ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সহসভাপতি মুনতাসীর মামুনসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে





