গত ১০.০৩.১৬ তারিখ সকাল সাড়ে ১০টায় যশোরে নির্মাণাধিন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংককে শিবিরের গোপন ঘর আখ্যা দিয়ে ছাত্রশিবির যশোর জেলা শাখার এইচআরডি সম্পাদক মো. নূরুজ্জামান, ইউনিয়ন সেক্রেটারী হাফেজ মো. বিল্লাল ও যশোর নিউ মার্কেট এলাকা থেকে যশোর জেলা পশ্চিমের সাহিত্য সম্পাদক আবুল কাসেমকে গ্রেপ্তারের পর এখনো পর্যন্ত তাদের আদালতে হাজির না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্রশিবির।
এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, যশোরের বসুদিয়া মোড় থেকে ১৫০ গজ দূরে গাইতগাছি মাছ বাজার সংলগ্ন নির্মানাধীন ভবনের সামনে থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর ৭ জনকে ৫৪ ধারায় চালান করলেও দুই শিবির নেতা বিল্লাল হোসেন ও নূরুজ্জামানকে আদালতে হাজির করেনি। এমনকি তাদের ব্যপারে কোন তথ্যও দিচ্ছেনা পুলিশ। অথচ গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ তাদের ছবি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলামেইলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।
যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন তাৎক্ষণিক ভাবে বাংলামেইলসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকে জানান যে, ‘বিল্লাল ও নূরুজ্জামান নামে দুই শিবির কর্মীকে আটক করা হয়েছে’। সেদিন রাতে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং এ ১২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে পুলিশ যাদের মধ্যে এই দুই শিবির নেতার নাম রয়েছে।
অন্য দিকে সুন্দরবন কুরিয়ার থেকে ফেরার পথে যশোর শহরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে আবুল কাসেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার সন্ধান জানতে চাইলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের তথ্য দিতে অস্বীকার ও আদালতে হাজির না করা নিয়ে নানা আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। অন্যায়ভাবে নিরাপরাধ ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে অস্বীকার করা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সরাসরি লংঘন । আইনের রক্ষক হয়েও পুলিশ বার বার এমন বেআইনি কাজ করছে।
নেৃতৃবন্দ বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বার বার এমন বেআইনি কান্ড ঘটিয়ে পুলিশ সাধারণ মানুষকে নিদারুন ভীতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠির ইশারায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কথিত বন্দুক যুদ্ধসহ নানা কায়দায় নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করছে।
সম্প্রতি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুঠিদূর্গাপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আবু হুরায়রাকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার করে। পরে এক মাস ছয় দিন পর তার লাশ পাওয়া যায়। একই এলাকা থেকে শিবির নেতাকে হাফেজ জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার করে ২২ দিন পর খুন করে মাঠে ফেলে রেখে যায়।
প্রায় প্রতি দিনই জাতিকে এমন ঘটনা শুনতে হচ্ছে। যা আমাদের উদ্ধেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সংগত কারণেই তাদের পরিবারের সাথে সাথে আমরাও গ্রেপ্তারকৃতদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত। অবিলম্বে আমরা গ্রেপ্তারকৃতদের অবস্থান নিশ্চিত ও মুক্তি দিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুস্বরণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।
এসটি





