ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র ইউনিয়নের মশাল মিছিলের সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্মিলিত ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলায় নিন্দা ও এই ঘটনায় সাথে সম্পৃক্তদের দ্রুত বিচার দাবি করেছে ছাত্রলীগ।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের উপর শান্তিনগরে হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সেই সময় তারা রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্মলিত ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন।

মশাল মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মোঃ ফয়েজ উল্লাহ, দীপক শীল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফাহাদ, সাধারণ সম্পাদক রাজিব নায়েম সহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরা। পরে ব্যানার-ফেস্টুনে আগুন লাগানোর চেষ্ট করলে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা আগুন না লাগিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

ঘটনাস্থলে ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলামিন, এস এম হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফ, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের নাহিদ, তানভীর, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত সহ আরো অনেকে।

এই বিষয়ে আলামিন বলেন, টিএসসিতে রাজনৈতিক কর্মসূচী থাকলেও বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার ছবিকে অবমাননা করার দায়িত্ব তাদের কে দিয়েছে? বঙ্গবন্ধু ও নেত্রীর প্রতি ক্ষোভ থেকেই তারা এই ভাঙচুর করেছে।

এই ঘটনার পর ছাত্র ইউনিয়নের এই প্রতিহিংসা মূলক কর্মকান্ডর প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এছাড়া উদ্দেশ্যমূলক ভাবে এই কর্মকান্ড সংগঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ।

তিনি বলেন, ছাত্র ইউনিয়ন কাজটি ভালো করেনি। আমি তাদের এই কর্মকান্ডের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাই। জাতির পিতার ছবি অবমাননাকে কোন ভাবেই বাংলাদেশের কোন ছাত্র সংগঠনের কাছে আশা করা যায়না। ব্যানার ফেস্টুন সরানোর দরকার হলে তারা সুন্দর ভাবে সরিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে পারতেন। তবে বঙ্গবন্ধুর ছবিকে এভাবে অবমাননা করা ছিলো তাদের উদ্দেশ্য।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্তমানে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান রয়েছে। ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে উদ্দেশ্যমুলক এই কর্মকান্ড করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানায়, গতকাল রাতে ছাত্র ইউনিয়ন আজকের মশাল মিছিল নিয়ে আলোচনা করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের এই কর্মকান্ড সংগঠিত হয়েছে।

এই ঘটনা সম্পর্কে ছাত্র ইউনিয়ননের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফাহাদ বলেন, রাজু ভাস্কর্য একটি আবেগের জায়গা শিক্ষার্থীদের জন্য। সেখানে এই ধরনের পোস্টার ব্যানার লাগানো অবমাননাকর। আমরা বলেছিলাম সম্মেলনের পর পর পোস্টার ব্যানারগুলো তুলে ফেলার জন্য। কিন্তু এতদিন পার হওয়ার পরও তারা সেসব তুলে নেয়নি। তাই আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহন করি।

হাসান/এমএম