জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও ৫ বারের নির্বাচিত সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুস সোবহান ইন্তিকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ব্রেইন স্ট্রোক করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ৯২ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
মাওলানা আবদুস সোবহানের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
তিনি ৫ পুত্র ও ৬ কন্যাসহ বহু নাতি-নাতনী, গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গিয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাশ হস্তান্তরের পর সালাতে জানাজা ও দাফনের সময় জানা যাবে।
মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুস সোবহানের ইন্তিকালে শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক শোকবাণীতে বলেন, “বাংলাদেশের গণমানুষের প্রিয় নেতা, ৫ বারের নির্বাচিত সাবেক এমপি, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, সমাজসেবক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুস সোবহানের ইন্তেকালে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক মামলায়, দলীয় লোকদের দ্বারা মিথ্যা স্বাক্ষ্য দেওয়ায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। গত ৮ বছর যাবত তিনি কারাগারে বন্দী জীবন যাপন করছেন। ৯২ বছর বয়স্ক প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুস সোবহান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে অনন্য অবদান রেখেছেন। পাবনার উন্নয়নে তিনি যে ভূমিকা পালন করে গিয়েছেন তা পাবনাবাসী গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে, ইনশাআল্লাহ।”
শোকবাণীতে আরও বলা হয়, “তিনি শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তার স্বপ্ন ছিল আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মকে দেশ ও জাতির নেতৃত্বের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা। এ স্বপ্ন বুকে ধারণ করেই তিনি কারাগারে বন্দী জীবন যাপন করেছেন। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি ব্যয় করেছেন এলাকবাসী ও দেশের উন্নয়নে। জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারা কর্তৃপক্ষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।”
জামায়াতের আমির বলেন, “হাসপাতালে তার যথাযথ পরিচর্যা ও চিকিৎসা না হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার আবেদন জানানো হয় তাকে পারিবারের তত্ত্বাবধানে সুচিকিৎসার সুযোগ দেয়ার জন্য। কিন্তু তা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। আমরা মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুস সোবহানের যথাযথ সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানিয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, সারাজীবন যিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা পালন করলেন জীবনের শেষ মুহূর্তে তার সুচিকিৎসার কোন ভালো ব্যবস্থা করা হলো না। তার সাথে যে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, তা নিতান্তই দুঃখজনক।”
“তিনি সরকারের অবহেলার শিকার হয়ে চিকিৎসা বঞ্চিত অবস্থায় মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট বিনয়ের সাথে দোয়া করি মহান আল্লাহ যেন তার সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।
আমি তার পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছি ও মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করছি তিনি যেন তাদেরকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন।” প্রেস বিজ্ঞপ্তি
মাওলানা আব্দুস সোবহানের ইন্তেকালে ছাত্রশিবিরের শোক
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ শোক বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: সিরাজুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, “দেশের ইসলামপ্রিয় কোটি জনতার প্রাণপ্রিয় নেতা মাওলানা আব্দুস সোবহান আজ দুপুর ১টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিঊন)। সরকারের সাজানো মামলায় আটক থাকা অবস্থায় জীবনের শেষ প্রান্তে তিনি পরিবারের সান্নিধ্য ও উন্নত চিকিৎসা বঞ্চিত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর এই বেদনাদায়ক মৃত্যুতে ইসলামপ্রিয় সাধারণ জনতা গভীরভাবে শোকাহত।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “মাওলানা আব্দুস সোবহান সুস্থ রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন গণমানুষের প্রিয় নেতা। যার প্রমাণ তিনি ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুধু পাবনা নন তিনি সারাদেশের ও ইসলামপ্রিয় জনগণের প্রিয় মুখ ছিলেন।”
তাঁকে ইসলামী আন্দোলনের অগ্রসেনানী উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “শত বাঁধা, নির্যাতন, অপবাদ সত্ত্বেও তিনি ইসলামের মহান আদর্শ থেকে চুল পরিমাণ বিচ্যুত হননি। এদেশের মাটিতে ইসলামী সমাজব্যবস্থা কায়েম করার জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন তিনি। জুলুম সহ্য করেছেন কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।”
শোক বার্তায় আরও বলেন, “তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিচারের নামে অবিচারের মাধ্যমে একজন জনপ্রিয় বর্ষীয়ান নেতাকে কারাপ্রকোষ্টে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।”
শোক বার্তায় বলা হয়, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ও নির্যাতন করে, কারারুদ্ধ করে সরকার ইসলামী আন্দোলনের কোন ক্ষতি করতে পারেনি। বরং আল্লাহর রহমতে আমাদের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ লাখো কোটি তরুণ ও ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য প্রেরণার বাতিঘর হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। অবৈধ সরকার যতই অপবাদ দিক না কেন, এই মহান নেতাকে তাঁর দেশ ও ইসলাম রক্ষার আপোষহীন ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করবে, ইনশাআল্লাহ।”
নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবার যেন ধৈর্যধারণ করতে পারেন, সেজন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমবি





