‘বিএনপির সাথে সমঝোতা হবে না’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যত যাই বলুক সমঝোতায় তাদের আসতেই হবে।

অন্যথায় প্রমাণিত হবে জাতির কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তবে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবে না জেনেই আলোচনা-সমঝোতার সব প্রস্তাব এড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন উপলক্ষে এ যৌথ সভার আয়োজন করে বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে যৌথসভায় দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্মমহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, আবদুল আউয়াল খান, মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, উত্তরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, স্বেচ্ছাসেবক দলের দলের শফিউল বারী বাবু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, আবুল হোসেন, যুবদলের মোরতাজুল করীম বাদরু, নূরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের তকদির হোসেন জসিম, ওলামা দলের এম এ মালেক, শাহ নেছারুল হক, শ্রমিক দলের নূরুল ইসলাম খান নাসিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময়ই বলে তারা সমঝোতা করবে না। মনে রাখতে হবে- তারা কিন্তু অতীতেও সমঝোতা চাননি। তবে সমঝোতায় তাদের আসতে হয়েছিল। আমরা বিশ্বাস করি আলোচনা-সমঝোতা ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জনগণ ও সৈনিকরা এক অভুতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুনরায় জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করার একটা উদ্যোগ নিয়েছিল এবং সফল হয়েছিল। এই দিবসটিকে দেশবাসী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।

৭ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার যে চেতনা তাকে সুসংহত করা হয়েছিল, দেশের স্বাধীনতাকে সুসংহত করা হয়েছিল। এর নেতৃত্বে ছিলেন জনগণ ও সৈনিকেরা, তারা সেদিন জিয়াউর রহমানকে সেই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়ে এসেছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে এমন একটা একদলীয় শাসনব্যবস্থার মধ্যে আমরা পড়েছি যে শাসনব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আবার বিপন্ন হতে চলেছে, দেশের গণতন্ত্র ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও নস্যাৎ করে ফেলা হয়েছে।

আমরা দেখছি দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে ভিন্নভাবে আবার এখানে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের মানুষ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা রুখে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কক্সবাজার যাত্রাপথে ফেনীতে হামলার ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলায় দায়েরের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে উল্টো মামলা দেয়াই আওয়ামী লীগের স্বভাব। এটা ওদের স্বভাব।

আপনাদের (সাংবাদিক) বিরুদ্ধে মামলা হয়নি আমি তো অবাক হচ্ছি এখন। কারণ আপনাদের গাড়ি-ঘোড়া ভাঙলো, আপনাদেরকে মারলো। তা আপনাদের বিরুদ্ধে তো মামলা হওয়া উচিত ছিলো, তাই না।

ফেনীর ঘটনার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ফেনীতে কি ঘটেছে, না ঘটেছে আপনার নিজেরাই ছিলেন। আমি অন্য কারো কথা বলতে চাই না। আপনারা ভিকটিম হয়েছেন, আমাদের দেশের সাংবাদিকরা ভিকটিম হয়েছে। তারা জানেন যে, কারা এটা ঘটিয়েছে? আজকে সংবাদ মাধ্যমে নাম ও ছবি দিয়ে, ঠিকানা দিয়ে সব এসে গেছে কারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে।

সরকারের উচিত ছিলো এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা। আসলে তারা চিরাচরিত অন্ধকার পথ থেকে তারা বের হতে পারেনি। তারা এখন মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

ওবায়দুল কাদেরেরে বক্তব্যের সমালোচনা করে সাবেক এই মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা তার বক্তব্য থেকে এটাই বুঝি তারা আসলে গণতন্ত্র চায় না। আওয়ামী লীগ যদি গণতন্ত্র চাইত তাহলে তারা অবিলম্বে বিরোধীগুলোর সাথে আলোচনায় বসতো এবং একটা পথ বের করতে পারতো।

আমরা সংঘাত চাই না। আমরা বার বার একই সংঘাতের মধ্যে পড়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চাই না। আমরা একটা সমঝোতা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, জনগণের আশা-আকাংখা যেন পুরণ হয় এই ধরণের একটি সরকার গঠন করার জন্য একটা সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আমরা চেয়েছি।

আমরা বার বার বলেছি, বিএনপিকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, জনগণের আশা-আকাংখা পূরণ করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। এটা করতে হলে অবশ্যই সরকারকে আলোচনার মধ্যে আসতে হবে।

এমএ