‘সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন’ স্লোগানটির পরিবর্তে ‘দারিদ্র্য উচ্ছেদ এবং সামাজিক উন্নয়ন’ স্লোগান হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
তিনি বলেন, আমাদের স্লোগান রয়েছে ‘সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন’। এখন সময় এসেছে এই স্লোগান পরিবর্তন করার। আমার মতে স্লোগান হওয়া উচিত ‘দারিদ্র্য উচ্ছেদ এবং সামাজিক উন্নয়ন’।
রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে বেশি দিন দরিদ্রতা থাকবে না। তাই এখন সময় এসেছে স্লোগান পরিবর্তনের। পরবর্তী স্লোগান হবে ‘দারিদ্র্য উচ্ছেদ এবং সামাজিক উন্নয়ন।’
মন্ত্রী বলেন, ধরে নেওয়া হয় যে দেশে মোটামুটি ভাবে দারিদ্র্য সীমার নিচের মানুষের সংখ্যা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সে দেশ দরিদ্র না। আশা করি এ দশকের শেষের দিকে আমরা দারিদ্র্য সীমা ২৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনবো।
তবে যখন দারিদ্র্য থাকবে না, তখনো ক্ষুদ্র ঋণের প্রয়োজন থাকবে। কারণ ১৪ শতাংশের মতো মানুষ প্রায় সময় দারিদ্র্য সীমায় থাকবে। এদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের প্রয়োজন হবে। দারিদ্র্য সীমায় থাকা নির্যাতিত, নিগৃহীত মানুষগুলোর সামাজিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। এদের সহায়তা দিতে সরকার অনেক আগে থেকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ ব্যক্তি পর্যায়ে চলে যায়। নাম করা ব্যক্তিরা এটির কার্যক্রম শুরু করেন। তখন এ ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প বা ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম আত্মকেন্দ্রীক হয়ে পড়ে। অনেক অসৎ মানুষ এর সুযোগ নিয়ে ঋণ খেলাপী হয়ে যায়। এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে অনেক মানুষ এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের পদক্ষেপ আর বাস্তবায়িত হয়নি।
এসময় মন্ত্রী বলেন, ঋণ খেলাপী না হওয়ার বিষয়ে আমি ড. ইউনুস’র প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ তিনি যে গ্রামীণ প্রকল্প শুরু করেন এ প্রকল্পে গ্রাহক যতই গরিব হোক ঋণ পরিশোধ করবেনই। সেখানে কেউ ঋণ খেলাপী নন। ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ খেলাপীর সংখ্যা কোনো ভাবেই ৫ শতাংশের বেশি না। এর অর্থ গরিব মানুষরা প্রমাণ করেছে তারা বিশ্বস্ত।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেন ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারীরা ৭০০ ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিচ্ছেন।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন’র (পিকেএসএফ) সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান’র সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিএফআইডি’র (ইউনাইটেড কিংডম'স ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট) বাংলাদেশ প্রতিনিধি সারা কুক, অর্থনীতিবিদ বাকি খলিলী, ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্স’র (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার মুজাহিদুল হক প্রমুখ।
পিকেএসএফ, আইএনএম ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
এএইচ





