দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার অনুপস্থিতিতে ব্লগার হত্যাসহ শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।
দলটির মতে, রাষ্ট্রে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে বলেই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার থাকলে সুশাসন নিশ্চিত হতো। তখন এই ধরনের ঘটনা ঘটতো না বলেও দাবি দলটির।
শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
সরকারের মধ্যে জঙ্গিবাদের জিগির আছে উল্লেখ করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমন হবে যদি বাংলাদেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হয়। জঙ্গিদের ধরা হয়, কিন্তু কোনো বিচার করতে দেখিনি। বিএনপি সব সময় জঙ্গিদের ধরেছে ও বিচার করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডকে আমরা সমর্থন করি না। সব হত্যাকান্ডের নিন্দা করি। দেশের আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা না থাকায় এই ধরনের নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটছে। আমরা মনে করি, আমাদের পরস্পরের সংবেদনশীল বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্মানবোধ থাকা উচিত। যে যে ধর্মেরই লোক হোন না কেন অপরের ধর্ম নিয়ে কটুক্তি ও কটাক্ষ করা উচিত নয়। একজন হিন্দুর উচিত নয় ইসলাম, রাসুল (সা:) ও আল্লাহকে নিয়ে কোনো কটুক্তি করা। তেমনি কোনো মুসলমানেরও উচিত নয় হিন্দু ধর্ম বা অন্য ধর্ম সম্পর্কে কটুক্তি ও কটাক্ষ করা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশু ও নারী নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রিপন বলেন, দেশে অস্বাভাকিভাবে শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। ২০১২ থেকে এ সময় পর্যন্ত প্রায় এক হাজারের মতো শিশু নির্যাতনের কারণে মারা গেছে। দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা একেবারেই নেই। সুশাসন অনুপস্থিত। যারা মনে করে অন্যায় করলে কোনো বিচার হবে না, যারা মনে করে জনগণকে পঁচা গম খাওয়ালে জনগণ রূখে দাড়াবে না; তাদের এই মানসিকতাই দেশব্যাপি নির্যাতন ও নৈরাজ্যের জন্য দায়ী।
মন্ত্রিরা তাদের মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট কথা না বলে অযাচিতভাবে অন্য প্রসঙ্গে কথা বলছেন মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, খাদ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব হচ্ছে কারা পঁচা গম আমদানির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার কিভাবে হবে এবং এই পঁচা গমের সর্বশেষ অবস্থা কি তা জনগণকে জানানো। তার এই দায়িত্ব পালন না করে তিনি দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়ে কথা বলছেন। খাদ্যমন্ত্রী এ সম্পর্কে কথা বলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কি না; প্রশ্ন করেন তিনি।
রিপন বলেন, দেশের আইন শৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, শুধু সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও গত কয়েক বছরে প্রায় তিন শতাধিক হত্যাকান্ড ঘটেছে। এই চিত্র সরকারের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করতে না পারলেও-সাধারণ মানুষ ক্রমেই নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠছেন। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য কোন পদক্ষেপ না নিতে পারলেও, বিরোধী দলের ওপর জুলুম, নিপীড়ন-নির্যাতন ও গ্রেফতারের কর্মকান্ড থেকে সরে আসেনি। শুক্রবার দলের অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভার অনুষ্ঠান থেকে ছাত্রদলের ১০ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়, গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি।’
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বিএনপিকে দমন করে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা চালিয়ে, বিরোধী দলকে দুর্বল করে বর্তমান আইন-শৃঙ্খলাজনিত সংকট, গণতন্ত্রের সংকট থেকে উত্তরণ লাভ করা সম্ভব নয়।’
‘সরকারের আচরণে মনে হয় দেশের একমাত্র সমস্যা বিএনপি এবং জিয়া পরিবার’-এমন মন্তব্য করে দলটির এই মুখপাত্র বলেন, সরকারের অনেক ব্যর্থ ও দুর্নীতির দায়ে চিহ্নিত পদচ্যুত মন্ত্রীরা বিএনপি এবং বিএনপি নেতৃত্ব নিয়ে আবোল-তাবোল বকে চলেছেন। তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ সুশাসন, জবাবদিহীতায় মনোযোগী হোন, জনগণের মন থেকে আতঙ্ক দূর করতে উদ্যোগ নিন। তা না করে বিএনপির পেছনে লেগে আখেরে কোন লাভ হবে না।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে রিপন বলেন, বিএনপির সঙ্গে শত্রু শত্রু খেলার কোনো কারন নেই। বিএনপি সরকারের শত্রু নয়। আমরা সরকারকে সহায়তা করছে চাই। যে সংকটের কারনে আজ ঘরে ঘরে আতঙ্ক বিরাজ করছে সে সংকট সমাধানে সরকারকে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে শাসক দলের নেতাদের সঙ্গে আমাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়। কুশল বিনিময়ও হয়। অনেকেই পরিস্থিতি উত্তরণে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের সাংগঠনিক কাজগুলো ভালোভাবে করছেন মন্তব্য করে রিপন আশা প্রকাশ করেন, তিনি (আশরাফ) বিরোধী দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার উদ্যোগ গ্রহন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ব্যারিস্টার হায়দার আলী, আবদুস সালাম আজাদ, সানাউল্লাহ মিয়া, আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহিন, সেলিম রেজা হাবিব, খোরশেদ মিয়া আলম, ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ





