ভারতের প্রধানমন্দ্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়েছে মোদি বিরোধী ছাত্ররা। গুজরাট দাঙ্গার কারিগর মোদির আগমনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশ আহবান করেছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।

মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে জোট বেঁধেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য। তার কর্মকাণ্ডের তারা তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশে তার আসার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় শাহবাগে তারা সমাবেশ করবে।

বুধবার বিকেল ৫ টায় শাহবাগে মোদির আগমনের প্রতিবাদে প্রকাশিত লিফলেট বিতরণকালে গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক মুক্তি কাউন্সিলের সদস্য সুমন মল্লিক, ফয়সাল বাপ্পা এবং ওবায়েদ ভুঁইয়াকে গ্রেফতার করেছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।

সরকারের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার জনগণের ন্যূনতম প্রতিবাদ কর্মসূচিকেও গলা টিপে হত্যা করছে। একদিকে নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে তার আগমনের প্রতিবাদকে দমন করা এটি বাংলাদেশে ভারতের হস্তক্ষেপের প্রশ্নে সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, দেশীয়স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে ভারতের স্বার্থে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ট্রানজিট দেয়া হয়েছে, সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপালে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাইনি অথচ ভারতের সাথে একের পর এক অসম চুক্তি করা হচ্ছে। দিন দিন ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। এদিকে সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, এই নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকে ভারতের দাসত্বের বেড়াজালে আবদ্ধ করছে, সরকারকে স্বার্বভৌমত্ববিরোধী এ নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবিলম্বে পরিত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশে ভারতের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

জেডআই