এক বছরের মধ্যে সরকার পতনের ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ্ বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিদায়ের দোয়া চাওয়া শুরু করেছে। বেগম খালেদা জিয়া সঠিক সময়ে আন্দোলনের ডাক দিবেন।
আজকে যেমন স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী সরকারের শৃঙ্খলবদ্ধ হয়ে পালন করতে হচ্ছে। আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেন তাহলে আগামী বছর ৩৬ তম প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী জাতীয়তাবাদী সরকারের অধীনে মুক্ত পরিবেশে উদযাপন করতে পারবো।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়র ইনস্টিটিউটে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৫ তম প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হান্নান শাহ্ বলেন, বিরোধী দল ও সুশীল সমাজকে সরকার সভা সমাবেশ করতে দেয় না। এই সরকার সংবিধান ও আইন মানছে না। সংবিধানে আছে সবাই সভা- সমাবেশ করতে পারবে। সরকারের যখন পতন আসন্ন হয়ে আসে তখন তারা বেপোয়ারা হয়ে যায়। সরকার প্রধান যখন জনগণের সামনে আসতে ভয় পায়। সরকার বলছে দেখা মাত্র গুলি করতে হবে। গনেশ উল্টে গেলে দেখবেন আজকে যারা তাদের হয়ে কাজ করছে তারা কি বলে এবং কি করে।
তিনি বলেন, নেত্রী নিদের্শ দিয়েছেন দলকে পুনগঠন করে শক্তিশালী করতে। সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানী করছে। কেউ স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে পারছে না। এই সরকার মিথ্যা প্রপাগন্ডা করে। এই প্রপাগন্ডার মাধ্যমে আমাদের দলে কিছু লোক দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা মনে করে আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনারা জানেন না আন্দোলন একদিনে কি হয়। পাকিস্তান এক দিনে যায় নি। এরশাদের বিরুদ্ধে ৯ বছর আন্দোলন করতে হয়েছে।
আন্দোলনে সফলতা পেতে বিএনপিসহ এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বরোপ করে দলটির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ঢাকা মহানগরের প্রত্যেকটি থানার কমিটিকে শক্তিশালী করতে হবে। কারন আন্দোলনের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হচ্ছে ঢাকা মহানগর। এখানে যারা শক্তিশালী তারাই জয়লাভ করবে। শক্তিশালী করতে হলে মাসেল নয়, মাথা লাগে।
আন্দোলনের অপেক্ষাকৃত তরুন নেতাদের অগ্রনী ভুমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বয়স্ক নেতা তারা রাজপথে আন্দোলন করতে পারবেনা। তারা বুদ্ধি দেবে, আন্দোলন পরিচালনা করবে। কিন্তু তরুনদের রাজপথে থাকতে হবে। আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবক দলকে বিএনপির রক্ষাকবচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের কোন শোক দিবস নেই। তারা সঠিক ভাবে শোক পালন করে না। এবার শোক দিবসের আগে মন্ত্রী সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে চাদাঁবাজি করবে না। তাহলে এর আগের বছরগুরোতে তারা চাদাঁবাজি করেছে।
হান্নান শাহ বলেন,আওয়ামী লীগের সোনার ছেলেরা ক্রসফায়ারে মারা যাচ্ছে। তারা হত্যা করছে । আমরা এ হত্যাকে সমর্থন করি না। তাই যে কোন একদিন যে কেউ মামলা করলে প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের জন্য পাকিস্তানে যেমন ভুট্টোর ফাঁসি হয়েছে তেমনি যারা সরকারে আছেন এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তারা ফেসে যাবেন আশঙ্কা করছি।
আয়োজক সংগঠনের সহ সভাপতি মুনির হোসেনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুব বিষষযক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।
এমএইচ





