গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতি কিংবা দলীয় প্রতীকের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যক্তি ইমেজ। নতুন ভোটার কিংবা পুরনো ভোটারও পাল্টে দিতে পারে যে কোনো সমীকরণ।
অবশ্য শেষ সময়েও আছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়া নিয়ে কোনো কোনো প্রার্থী বা দলের আশঙ্কা। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।
নির্বাচনী প্রচারণার বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা পূর্বে অর্থাৎ ২৪ জুন দিবাগত রাত ১২টার আগেই সকল ধরনের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে গাজীপুর চষে বেড়িয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার দলীয় প্রার্থী এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমকে বিজয়ী করতে তৎপর হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
দলীয় কোন্দল মিটিয়ে নৌকাকে বিজয় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের পর এখন টার্গেট গাজীপুরের দিকে।
কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে গেলে বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হবে। টঙ্গীর নোয়াগাঁও স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে রোববার সকালে মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি’র বাস ভবনে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এক সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বৃহস্পতিবার তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরীর সালনা, দেশীপাড়া, বাঘলবাড়ি, শিমুলতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও জনসংযোগ করেন। এ সময় মির্জা আব্বাস নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
গত নির্বাচনে বিএনপি মমনোনীত মেয়র প্রার্থী আ. মান্নানের জয়লাভ করেন তবে, গাজীপুরের উন্নয়ন নিয়ে হতাশা আছে ভোটারদের মধ্যে। তবে গাজীপুর কে উন্নত গ্রীন সিটি কারার লক্ষে প্রচার প্রচারণা করছেন সরকার দলীয় প্রার্থী এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিএনপি। নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা করলেও নিজের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব হাসান উদ্দীন সরকার।
গাজীপুর সিটির ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে দাবি করে অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে আছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তবে অন্য প্রার্থী সুষ্ঠু ভোট নিয়ে রয়েছেন শঙ্কায়। সুষ্ঠু ভোট শঙ্কা রয়েছে ভোটারদের মাঝেও।
গাসিকের দ্বিতীয় নির্বাচনে এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি প্রথম থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তার সংশয়ের কথা জানিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি করে আসছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সক্রিয় কর্মীদের ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করছে। সাদা ও ইউনিফর্ম পরিহিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তা করছে। তারা নিরপেক্ষ আচরণ করছেন না। আমাদের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে অন্য জেলার থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে। আমরা এতকিছু সহ্য করছি। মোকাবিলা করছি। ভোটের দিন কেন্দ্র দখল ও জালভোট দেয়া হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।
নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠুভাবে হবে বলে দাবিকরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারকে বিব্রত করার জন্য ও প্রশ্নের মুখে ফেলার জন্য বিএনপি প্রার্থী তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। গাজীপুরে অতীতের সবগুলো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। এবারের নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
দেশের সর্ববৃহৎ এ সিটি কর্পোরেশনে দ্বিতীয় নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে ২৬ জুন । গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মোট আয়তন ৩২৯ দশমিক ৫৩ বর্গ কিলোমিটার।গাজীপুরে ৫৭টি ওয়ার্ডে মোট কাউন্সিলর প্রার্থী ২৫৫ জন৷ আর সংরক্ষিত ১৯টি নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ৮৪ জন। ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ জন ও মহিলা ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২৫টি। ভোট কক্ষ ২ হাজার ৭৬১টি।
তানভীর/এমবি





