গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তি কারণ মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের অগণতান্ত্রিক ও এক তরফা সিদ্ধান্ত। বলেছেন-ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রঐক্য ফেরাম ও বাংলাদেশ ছাত্র সমিতি যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গণজাগরণ মঞ্চ একটি অরাজনৈতিক ও দলনিরপেক্ষ আন্দোলন। এটি কখনোই রাজনৈতিক দল হতে পারে না। যদি মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার রাজনৈতিক দল গঠন করতে চান, তবে মঞ্চের বাইরে গিয়ে তা করতে হবে। নইলে পুরো জাতির সঙ্গে বেঈমানি করা হবে।
বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, ৩ এপ্রিলের সংঘর্ষ অবশ্যই মঞ্চের দুই পক্ষের সংঘর্ষ। এখানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তাতে মঞ্চের মুখপাত্রের রাজনৈতিক দল গঠনের অভিপ্রায়ই প্রকাশ পায়।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মঞ্চের প্রতিপক্ষ নয়। নিজেদেরই প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি সুযোগ নেবে।
বাপ্পাদিত্য বসু আরো বলেন,  গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রের পদ স্থায়ী নয়। আন্দোলনে ব্যাঘাত ঘটে এমন কোন সিদ্ধান্ত আমরা নেবো না। তবে এই পদ স্থায়ী নয়। যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।
এদিকে রাজধানীর পরিবাগে সাহিত্য বিকাশ কেন্দ্রে  সংবাদ সম্মেলনে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, সরকারের নৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন ও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মঞ্চের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়েছে।
সরকার গণজাগরণ মঞ্চকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরান এইচ বলেন, আমি সুনির্দিষ্টভাবে সরকারকে দায়ি করবো না। তবে সরকারের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি মঞ্চকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা অনভিপ্রেত।”
এক প্রশ্নের জবাবে মঞ্চের মুখপাত্র দাবি করেন এককভাবে কখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেই নি। কোনো বিষয় সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সবার সঙ্গে আলোচনা করেই নেয়া হয়েছে। একনায়কতান্ত্রিক কোনো বিষয় আমি বিশ্বাস করি না।
গণজারগণ মঞ্চের ঐক্য নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরী হয়নি দাবি করেন ইমরান। তিনি বলেন, “এখনো কোনো পরিস্থিতির তৈরি হয়নি। যেসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ ওঠেছে তা নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা যাবে।”
মঞ্চের বিরুদ্ধে  আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইমরান সরকার বলেন, “শুরু থেকেই মঞ্চের কর্মী সমর্থকরা কাজ করেছেন। যখন যা প্রয়োজন ছিল তা কর্মীরাই ব্যবস্থা করেছে। এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল না, ভবিষ্যতেও এটাকে ‘অ্যভোয়েড’ করবো।
[b]ঢাকা, ৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]