তিনি বলেন, বিএনপি মুখে বলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই, এটা তাদের মিথ্যাচার। তারা নিজেরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিশ্বাস করে না। কারণ এরশাদের পতনের আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একসঙ্গে আন্দোলন করেছিল। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে তাদের কথা রাখল না। তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান এই নেতা বলেন, দেশের উন্নয়ন দেখে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চাইছে এ দেশ পাকিস্তানের রূপরেখায় চলুক। এই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে, আওয়ামী লীগ তাদের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আবারো ক্ষমতায় আসবে।

জনগণ বিএনপির পাশে নেই জানিয়ে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, বিএনপি বুঝতে পেরেছে জনগণ তাদের পাশে নেই। কারণ তারা আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করেছে, পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের হাতে ক্ষমতা যাক এটা বাংলার মানুষ চায় না। তাই বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচন বানচাল করার নতুন চক্রান্ত করছে।

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল দাবি করে আমির হোসেন আমু বলেন, বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। কোথাও কোনো অভাব নেই। মানুষ খেয়ে-পড়ে শান্তিতে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন, শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছেন। গ্রামে গ্রামে রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ট করে দিয়েছেন। বিভিন্ন ভাতা দিয়ে মানুষকে সহায়তা করে যাচ্ছেন।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আবারো নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আনিচুর রহমান ও গোলাম রব্বানী চিনু।

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বাংলদেশের উন্নয়ন দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি গোষ্ঠী নতুন করে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারা বলেছিল, পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না শেখ হাসিনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি করে দেখিয়েছেন, এটা আমাদের গৌরব। মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় আসে, তাহলে আবারো লুটপাট, হামলা, নারী ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হবে। সুযোগ পেলে তারা বাংলাদেশকে গিলে খেয়ে ফেলবে। ওরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধ্বংস করে দিবে।

এমআই