সিরিয়ায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদ ও অবিলম্বে তা বন্ধের দাবীতে রাজধানীসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন শাখা।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, সিরিয়ায় ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চলছে। একদিকে বাশার আল আসাদ ও তার মিত্র বাহীনি অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বিদ্রোহীদের রক্ত খেলার বলি হচ্ছে সিরিয়ার নারী, শিশুসহ বেসামরিক লোকজন।

চলমান হত্যাযজ্ঞে ইতিমধ্যে প্রায় সাত শত মানুষ নির্মম ভাবে নিহত হয়েছে যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। এমনকি বেসামরিক মানুষদের উপর বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে যার প্রভাবে বহু নারী ও শিশু মারা যাচ্ছে।

এখনো এই গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে। অথচ বিশ্ব সম্প্রদায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। স্পষ্টত স্বৈরাচার ও সম্রাজ্যবাদী অপশক্তির নারকীয় গণহত্যার শিকার হয়ে চলেছে সিরিয়ার মুসলমানরা। দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী হিসেবে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে।

২০১৩ সাল থেকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলেও বর্তমানে তা আরও ভয়াবহ রুপ ধারণ করছে। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য ও ওষুধের অভাবে সেখানে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং মানুষ তীব্র পুষ্টিহীনতায় ভোগছে। অথচ বিশ্ববাসী এখন পর্যন্ত সিরিয়ায় বর্বর কর্মকান্ড থামাতে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সিরিয়ায় স্বৈরাচার ও সম্রাজ্যবাদীদের এই হত্যাযজ্ঞ মানব সভ্যতার ইতিহাসের লজ্জাজনক উপাখ্যান হয়ে থাকবে। নিরিহ নারী শিশুদের উপর নৃসংশতায় নিরব থাকা মানে গণহত্যায় সরাসরি সমর্থন। বিশ্বের শান্তি প্রিয় মানুষ অবুঝ শিশুদের আর্তনাদ আর সইতে পারছে না।

এ অবস্থায় মুসলিম দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের নিরব থাকা গণহত্যাকে সমর্থনের শামিল। অবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। এ বর্বরতা বন্ধে বিশ্ববাসীকে বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে। সিরিয়ায় স্থায়ী শান্তি স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

কোন ভাবেই মুসলিম দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ মজলুমের আর্তনাদ পাশ কাটিয়ে যেতে পারে না। প্রতিদিনই লাশের সারি লম্বা হচ্ছে। সুতরাং অবিলম্বে স্বৈরাচার ও সাম্রাজ্যবাদীদের বর্বরতা থেকে সিরিয়ার জনগণকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে জাতিসংঘ, ওআইসি, আরবলীগ, মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানান।

এসময় রাজধানীসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা মহানগরী পূর্ব, ঢাকা মহানগরী উত্তর, চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর, কুমিল্লা মহানগরী, খুলনা মহানগরী, ময়মনসিংহ মহানগরী, বগুড়া শহর, দিনাজপুর শহর, নোয়াখালী শহর।

এএস