বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের নামে দুদকের দায়ের করা দুইটি মামলাই মিথ্যা। শুধুমাত্র রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্যই এসব মামল করা হয়েছে। আইনের মাধ্যমে বেগম জিয়া মুক্তি পেতেন কিন্তু সরকার যে পদ্ধতিতে মামলা পরিচালনা করছেন তাতে মুক্তি পাওয়ার আশা সংকুচিত হয়ে আসছে। আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি। তারপর ও আমরা আইনী লড়াইয়ের সাথে সাথে রাজপথে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেব।

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, যখনই বেগম খালেদা জিয়ার নামে করা মামলার তারিখ আসে তখনই শেখ হাসিনা অপপ্রচার করেন। তিনি বলেন খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। বিচার করতে হবে। মূলত তিনি পরোক্ষ ভাবে বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন। আমরা এসব মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার নামে করা মামলা প্রত্যাহার করে স্ব সম্মানে মুক্তি দেওয়ার আহবান জানাই।

তিনি বলেন, আওয়ামী সরকার ব্যাংক , শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ খাত থেকে যে পরিমান টাকা দুর্নীতি করেছে তাতে তাদের মুখে দুর্নীতির কথা মানায় না।

দুদুক চেয়ারম্যানের কাছে প্রশ্ন করে বিএনপির এই মূখপাত্র বলেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে আপনি বক্তব্য দিয়ে বিচারকাজে প্রভাবিত করছেন। যখন শেখ হাসিনার নামে দুর্নীতির মামলা তুলে নিলো তখন আপিল করলেন না কেন। দুদক চেয়ারম্যানের নিরপেক্ষ কথা বলা উচিৎ, তানা বলে তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মতো বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি একটি দলের হয়ে আগেও কাজ করেছেন এখনও করছেন।

দেশে দুই আইন চলছে বলে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, সরকারী দলের জন্য এক আইন আর বিরোধী দল তথা সরকারের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে বা সমালোচনা করে ভিন্ন মত পোষণ করলেই তার উপর নেমে আসে নির্যাতন। হয় তাকে গুম-হত্য না হয় তাকে জেলে দেওয়া হয়।

সারা দেশের মামলার চিত্র তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার বিরোধী দলের সারা দেশের নেতাকর্মীদের নামে তিন হাজার মামলায় পাচঁ লক্ষ লোককে আসামী করেছে। এর অর্থ মানুষের ইপর নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় কেউ হামলা মামলা করে টিকে থাকতে পারে নাই। এরা স্বৈরাচারী সরকারও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইসচেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ।

এমএইচ, জেএ