সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ২০ দলীয় জোটের পতাকাতলে নিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়, তার বর্তমান এই সরকারের কাছ থেকে নিস্তার চায়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৪ জেলার নির্বাচিত দলীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি প্রধান এসব কথা বলেন।

এ সময় আন্দোলনের জন্য তৃণমূল পযায়ে জনগনকে সংগঠিত করার আহবান বেগম জিয়া। চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকগণ, ৩০ জন উপজেলার চেয়ারম্যান, ২৭ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ১৮ জন পৌর মেয়র বৈঠকে অংশ নেন।

বেগম জিয়া বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আন্দোলনের মাধ্যমেই অবৈধ সরকার পরিবর্তন হবে। আমরা আন্দোলন করবো, তা হবে শান্তিপূর্ণ। আন্দোলনে যদি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের গুণ্ডাদের দিয়ে হামলা করা হয় তা সহ্য করা হবে না। আমরা অনেক মার খেয়েছি, অনেক সহ্য করেছি, রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়েছি। আর দেব না। তারা যে ভাষায় আচরণ করবে সেই ভাষায় জবাব দেওয়া হবে।’ বাধা দিলে পরিণতি শুভ হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। 

মতবিনিময় সভায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই খালেদা জিয়া তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সরকারের দুনীতি, অপশাসনের নানা চিত্র তুলে ধরেন। ৫ জানুয়ারির নিবাচনের বর্জনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ৮৬ সালে নিবাচনের সময়ে দলের বয়স্ক নেতারা বলেছিলেন, নিবাচন করা হলে বিএনপি মুসলিম লীগ হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা এরশাদের অধীনে সেই নিবাচনে যাইনি। ১৯৯১ সালে নিবাচনে বিএনপিকে জনগন নিবাচিত করেছিলো। এবারও আমরা সঠিক পথে আছি। আমরা আবার বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।

সরকারির গোয়েন্দা সংস্থার কাজের সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বিভিন্ন এজেন্সী দিয়ে রাজনৈতিক দল ভাঙা হচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক দল করানো হচ্ছে। এজেন্সীদের দিয়ে বিএনপির নেতা-কমীদের গুম-খুন করানো হচ্ছে। আমি এজেন্সীদের উদ্দেশ্যে বলব, এসব কমকান্ড বন্ধ করুন। এসব কাজ আপনাদের নয়। আওয়ামী লীগেই চিরস্থায়ী সরকার নয়। তাদের বিদায় নিতে হবে। তখন আপনাদের ওইসব কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ওই সময়ে আপনারা যদি বলেন,সরকারের নিদেশে ওইসব কাজ করেছি, তখন কেউ পার পাবেন না।’

শিক্ষার মান কমে গেছে অভিযাগ করে বেগম জিয়া বলেন, জিপিএ ফাইভ এর ছড়াছড়ি। ওইসব শিক্ষাগ্রহনকারীরা উচ্চ শিক্ষায় সুযোগ পাচ্ছে না। এভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাত, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিচার বিভাগসহ সবক্ষেত্রে দুনীতি লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ আজ খুন-গুম-জুলুম করেও সুফী হয়েছে। আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। তারা একের পর এক মিথ্যাচার করছে। তাদের কথার জবাব দিলে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে সরকার। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) এর কাজের আবারো সমালোচনা করে তিনি বলেন, নারায়নগঞ্জের ঘটনায় দোষীদের এখনো বিচার হয়নি। কারাগারে তাদের জামাইয়ের আদরে রাখা হয়েছে।

দুনীতি দমন কমিশন সরকারের মন্ত্রীদের দায়মুক্তি দিচ্ছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। তাকে দুদক দায়মুক্তি দিয়েছে। এভাবে মন্ত্রীদের তারা (দুদক) দায়মুক্তি দিচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, দুনীতির কারণে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। যারাই দায়মুক্তি পাচ্ছে, তাদের একদিন আইনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা দেশে যুব সমাজকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

মতবিনিময় সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লা বুলু, মো. শাহজাহান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, উপ- কোষাধ্যক্ষ এসএম ফজলুল হক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ, জেএ