জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে একতরফা মার্কিনী স্বীকৃতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।
আজ (শুক্রবার) দলটির ঢাকা মহনগরী দক্ষিণ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সহকারী এম আলাউদ্দিন আরমান ও এস এম আব্দুল্লাহ’র স্বাক্ষরিত দু’টি প্রেসবার্তায় এসব জানানো হয়।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে একতরফা মার্কিনী স্বীকৃতির প্রতিবাদে দলটির কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ কামাল হোসাইনের নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। মিছিলটি আজ জুম্মার নামাজের পর যাত্রাবাড়ীর চিটাগাং রোডে শুরু হয়ে কাজলা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, “ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্তে গোটা মুসলিম উম্মাহর সাথে আমরাও বিক্ষুব্ধ, মর্মাহত ও বিস্মিত। জেরুজালেম শুধু কোন স্থানের নাম নয় বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের প্রথম কেবলা ও প্রাণের স্পন্দন পবিত্র মাসজিদুল আকসা সেখানে অবস্থিত। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ভাবেও এই পবিত্র স্থান আরব মুসলমানদের বলে স্বীকৃত এবং ফিলিস্তিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অপরদিকে জবরদখল কারি ইসরাইলি রাষ্ট্রের কোন বৈধতা নেই, সেখানে সেই দেশের রাজধানী হিসেবে পবিত্র এই স্থানকে মার্কিন ঘোষণা চরম দায়িত্বহীনতা, অবিবেচক ও উস্কানিমূলক কাজ। ডোনাল্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বের বিবেকবান কোন মানুষ মেনে নিতে পারেনা। আমরা এই ঘোষণা ও সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছি। আমাদের সাথে ঐক্যমত্য প্রকাশ করে গোটা মুসলিম বিশ্বের লাখ লাখ মুসলমান বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বহু আগে থেকেই আরব বিশ্বকে অস্থিতিশীল করার অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে মার্কিন সরকার ও ইসরাইল। তারা ইসলাম ও মুসলমানদের ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যা এ ঘোষণার মাধ্যমে আবারো প্রমাণ হয়েছে। তাদের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো মুসলিম উম্মাহর পবিত্র দায়িত্ব।” নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার এই ষড়যন্ত্রমূলক স্বীকৃতি বাতিল করার জন্য আহ্বান জানান। একই সাথে এই উস্কানিমূলক সিদ্ধান্ত বাতিলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ও মুসলিম বিশ্বের ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য জাতিসংঘসহ বিশ্ব মোড়লদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, আব্দুল বারি আকন্দ, সগির বিন সাঈদ, আমিনুর রহমান, মতিউর রহমান, হাফিজুর রহমান, নিজামুল হক নাঈম, আমীরুল ইসলাম বাহার, আবু ফাতেহ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী পূর্বে সেক্রেটারি ছাত্রনেতা তোফাজ্জল হোসেন হেলালী, জামায়াত নেতা মুতাছিম বিল্লাহ, মনির হোসাইন, আলী হোসেন, ছাত্রনেতা মজিবুর রহমান, ইমাম হোসেন, মু. রিদওয়ানুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম বলেছেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় পুরো মুসলিম উম্মাহ বিক্ষুদ্ধ ও উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই অন্যায় ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রশাসনের ইহুদী তোষণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।”
তিনি হঠকারীতা পরিহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অনাকাঙ্খিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহবান জানান। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা কোন ভাবেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পবিত্র জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন। মিছিলটি মহাখালী রেলগেট থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
লস্কর তসলিম বলেন, “বিশ্ব মুসলিমের প্রথম কিবলা মাসজিদুল আকসা জেরুজালেম অবস্থান শহরেই। তাই এই পবিত্র শহর কোন অবস্থায় ইসরাইলের রাজধানী হওয়া যৌক্তিক নয়। সে অধিকারও ইসরাইলের নেই। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনাকাঙ্খিত ঘোষণায় বিশ্বের প্রায় দু’শ কোটি মুসলমানকে মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। ইতোমধ্যেই গোটা আরব বিশ্বে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ও হাজার হাজার মুসলমান রাজপথে নেমে এসে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় আবারো প্রমাণিত হলো যে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিককালে যে অশান্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে তা মার্কিন প্রশাসন ও ইসরাইলের যোগসাজসের ফসল।” তিনি পবিত্র ভূমি জেরুজালেম নিয়ে ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় বিশ্ব মুসলিমকে এক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, “মুসলমানদের পবিত্র নগরী জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি প্রায় ৭০ বছরের মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির মারাত্মক লঙ্ঘন এবং এই স্বীকৃতিদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ। তাই এই ঘটনার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিশ্ব জনমতের বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহণ করেছে। আর এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তে দু’দেশের মধ্যে চলমান শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হবে। তিনি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা থেকে দেশটিকে বিরত রাখতে জাতিসংঘ, আরবলীগ এবং ওআইসিসহ বিশ্ব সংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের। অন্যথায় মধ্যপ্রচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কোন ভাবেই সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।”
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, এ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসাইন সুজা ও মেজবাহ উদ্দীন নাঈম, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, হেমায়েত হোসাইন, এইচ এম আতিকুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল, ডা. শফিউর রহমান, হোসাইন আহমদ, আব্দুল্লাহ মু’য়াজ, আব্দুল্লাহ জোবায়ের, আশরাফুল আলম, নাসির উদ্দীন, জামায়াত নেতা মাওলানা মুস্তাকিম, এনামুল হক শিপন, মাওলানা রুহুল আমীন, মুহাম্মদ ঈসা, এ্যাডভোকেট মাহবুব ফেরদৌসী, গাজী মনির হোসেন. শিবিরের ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, উত্তর সভাপতি জামিল, পশ্চিম সেক্রেটারি আব্দুল আলীম ও সাংগঠনিক সেক্রেটারি জোবায়ের প্রমূখ।
এমবি





