মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে আজ সকালে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মশিউর মালেক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতে মামলার গ্রহণ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
২১ ডিসেম্বর এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা বলেন, “আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।”
তার ওই বক্তব্যের পর আওয়ামী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। নড়াইলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নামে একটি মামলা রুজু করা হয়। বক্তব্য প্রত্যাহার করে খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। ইতোমধ্যেই বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট বারের আওয়ামীপন্থী আইনজীবি মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী।
প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও উপদেষ্টা সাজিব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পেইজে দেয়া স্ট্যাটাসে সবাইকে “খালেদার বাড়ির সামনে প্রতিবাদ জানাতে” আহবান জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্তানের মুখপাত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রশ্ন তোলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার শহীদ পরিবারের তালিকা আছে। তাহলে বাকি ২৭ লক্ষ কোথায় গেল?’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সরকারি কোনো রেকর্ড নাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শহীদের সংখ্যা ত্রিশ লক্ষ প্রমাণিত হয় না। এর সংখ্যা বেশি বা কম হতে পারে। সঠিক সংখ্যা নিরূপনে একটি গণজরিপ দরকার।'
এমএ





