কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তার সেজো বোন সেলিমা ইসলাম।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বিছানা থেকে বাথরুম দুই-তিন হাত জায়গা হবে তা যেতে ২০ মিনিট সময় লাগে। এখানে যে চিকিৎসা হচ্ছে তাতে তার শারীরিক কোনো উন্নতি হচ্ছে না। আজকেও ফাস্টিং সুগার ১৪-১৫ ছিল।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই দাবি জানান।
এর আগে বিকাল সোয়া ৩ টার দিকে বেগম খারেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন পরিবারের ৫ সদস্য।
সাক্ষাৎ শেষে সেলিমা ইসলাম আরও বলেন, খারেদা জিয়ার শরীর খুবই খারাপ ছিল। সে শ্বাসকষ্টে ভুগছে। একদম কথাই বলতে পারছেন না। সে উঠে ৫ মিনিটও দাঁড়াতে পারছেন না। বাঁ হাতটা সম্পূর্ণভাবে বেঁকে গেছে। এখন ডান হাতটা বেঁকে যাচ্ছে। খেতে পারছেন না, খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছে। গায়ে জ্বর ও প্রচন্ড ব্যাথা। গায়ে হাত দেয়া যাচ্ছে না। গায়ে হাত দিলেই সে চিৎকার করছে। এই অবস্থায় মানবিক দিক চিন্তা করে ওনাকে মুক্তি দেয়ার জন্য আমরা জোড় দাবি জানাচ্ছি।
সেলিমা ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা খুবই প্রয়োজন। ওনার শরীর এতই খারাপ যে এই মুহূর্তে যদি ওনাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া না হয় তাহলে উনার কি হবে সেটা বলতে পারছি না। আমাদের একটা আবেদন তাকে মুক্তি দেয়া হোক। তার চিকিৎসাটুকু যেন আমরা করতে পারি এটাই আমাদের আবেদন।
তিনি বলেন, এমতাবস্থায় সরকারের কাছে আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। আজকে দুই বৎসর যাবৎ খালেদা জিয়া কারা অন্তরীণ আছে। যখন তিনি কারাগারে গিয়েছেন তখন তার শারীরিক যে অবস্থা ছিল এখন সে অবস্থা নেই। সে হেটে চলে বেড়াতো এখন সে পাঁচ মিনিটও দাড়াতে পারে না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেলিমা ইসলাম বলেন, তার মুক্তির জন্য আমরা এখনো আবেদন করিনি। আমরা জাতির কাছে আবেদন করছি, জনতার কাছে আবেদন করছি যে ওনার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা পরিবারের ৫ সদস্য হলেন- বেগম খালেদা জিয়ার সেজো বোন সেলিমা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারে স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ছেলে অভিক ইস্কান্দার, তারেক রহমনের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বড় বোন শাহিনা জামান খান, আরাফাত রহমান কোকোর শাশুড়ি ফাতেমা রেজা।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। রায়ের পর ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করছেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালের ০১ এপ্রিল থেকে কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া।
এমবি





