ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেছেন, কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক রায় বহাল রেখে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে হত্যা করছে ফ্যাসিষ্ট সরকার। সরকারের মদদপুষ্ট বিচার বিভাগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেত্রেটারী জেনারেল মো. কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক রায়কে বহাল রাখতে রিভিও আবেদন খারিজ করার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্রশিবির।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বার্তায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারী জেনারেল আতিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
আবদুল জব্বার বলেন, অবৈধ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিচার বিভাগীয় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কামরুজ্জামানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যা কোন বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারেনা। এ রায় আওয়ামী লীগের দেশ থেকে ইসলামী আন্দোলনকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্রকে সফল করতে সহযোগির ভূমিকা পালন করেছে মাত্র। আমরা এ সাজানো রায়কে বহাল রাখার জন্য রিভিও আবেদন খারিজের সিদ্ধান্তকে ঘৃনার সাথে প্রত্যাখ্যান করছি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া পুরোটাই ছিল সাজানো এবং প্রতিহিংসা মূলক। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার মামলায়। পরে তাকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো হাস্যকর ও বিভ্রান্তিতে ভরপুর।
আবদুল জব্বার আরো বলেন, বলেন, ১৯৭১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পড়োয়া একজন শিক্ষার্থী একটি জেলার আল বদর কমান্ডার হবে পাগল ছাড়া আর কেউ বিশ্বাস করেনা। আর যদি সত্যিই তিনি গণহত্যায় জড়িত থাকতেন তাহলে ৪০ বছরে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা বা জিডিও হলনা কেন? তিনি কিভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেন? তাছাড়া সহিপুর গ্রামে যে গণহত্যার জন্য তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে তার সাক্ষী নেওয়া হয়েছে গোপনে এবং সেই গ্রামের সাক্ষীরা সরাসরি তাকে দেখেছে বলে উল্লেখ করেনি বরং শোনা কথা বলেছে।
তিনি বলেন, সহিপুর গণহত্যায় পিতা হারানো আরশেদ আলী তার সাক্ষীতে বলেছে কামারুজ্জামান সেই গণহত্যার সাথে জড়িত ছিলেন না। ৪ নং চার্জে গোলাম মোস্তফা হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হলেও নিহতের দুই ভাই যারা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন তারা কেউই কামারুজ্জামানকে হত্যা করতে দেখেছে এমন কথা বলেন নি। বরং তারা যে সাক্ষী দিয়েছেন তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগের বিপরীত ছিল।
তিনি আরও বলেন,এ মামলায় ঘটনার বিবরণে ভিন্নতা ও তথ্যে অসংলগ্নতা ছিল স্পষ্ট। এর পরও কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় কোন বিবেকবানের পক্ষ থেকে আসতে পারে বলে জনগণ মনে করেনা। তবুও বিবেকবান জনগণ আশা করেছিল রিভিও এর মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে। কিন্তু দুঃজনক ভাবে রিভিও না করেই তা খারিজ করে দিয়ে অবিচারের পথকেই বেছে নেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ন্যায়ভ্রষ্টতার নিকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। যা ন্যায় বিচারের ইতিহাসের কপালে আরেকিট কলঙ্ক তিলক লেপন করেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আইন-আদালতকে আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু মানুষের ন্যায় বিচার পাবার শেষ স্থানটিও যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরিতার্থের জন্য ব্যবহার হয় তাহলে অবিচারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধের পথ ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকবেনা। যদি কামরারুজ্জামানকে অন্যায় ভাবে হত্যা করার চেষ্টা করা হয় তাহলে ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে এমন অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলবে যা মোকাবেলা করার ক্ষমতা অবৈধ সরকার বা তার সহযোগিদের থাকবেনা।
নেতৃবৃন্দ কামারুজ্জামানকে হত্যা ষড়যন্ত্র থেকে বিরত হয়ে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
এমকে





