চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ৭ দফার ভিত্তিতে দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাথে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাপ‘র সভায় অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, সরকারের একগুয়েমী নীতির কারণেই আজকের এই রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিরোধী দলকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ ও তাঁর উপর পিপার স্প্রে ব্যবহার, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী-সহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গণ-গ্রেফতার সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে।

আজ শনিবার সকালে স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ‘এর প্রেসিডিয়াম ও ভাইস চেয়ারম্যানদের যৌথ সভায় ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি‘র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব গোলাম সারওয়ার খান, সাদ্দাম হোসেন, ব্যারিষ্ঠার মশিউর রহমান গাণি, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ বেনজির আহমে, কাজী ফারুক হোসেন, এটিএম দেলোয়ার হোসেন, সৈয়দ জাকারিয়া জিকু প্রমুখ।

সভায় অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, আজ দেশে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য দায়ি হচ্ছে সরকারের আত্ম অহংকার ও একগুয়েমী নীতি। আর তাদের এই একগুয়েমীর কারণে জনগনের কষ্টার্জিত গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে।

সরকার অবৈধ ক্ষমতায় চিরস্থায়ী করতে যেয়ে সমগ্র দেশটাকে কারাগারে পরিনত করেছে। বিরোধী দলের আন্দোলনকে দমন করতে যেয়ে দেশটাকে পুলিশী রাষ্ট্রে পরিনত করছে।

সভায় আরো অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তোরনের একমাত্র উপায় হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রদত্ত ৭দফার ভিত্তিতে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে জাতীয় সংলাপের ব্যবস্থা করে অবিলম্বে সকল দলের অংশগ্রহনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারের উচিত একগুয়েমী ও অহমিকা বাদ দিয়ে দ্রুত জাতীয় সংলাপ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। অন্যথায় আগামী দিনের ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।

সভায় অবিলম্বে অবরুদ্ধ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চলাচলের উপর সকল বাঁধা-নিশেষ প্রত্যাহার, গ্রেফতারকৃত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শমসের মোবিন চৌধুরী-সহ সকল নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানানো হয়।

এসএইচ