চলমান করোনাকালীন দূর্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ঈদ আনন্দকে ভাগাভাগি করতে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রকৃত শিক্ষা রাষ্ট্রীয়, সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিজীবনে প্রতিফলন ঘটিয়ে কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে এক শুভেচ্ছা বাণীতে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
এক যৌথ শুভেচ্ছা বাণীতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। মুসলিম সমাজ জীবনে ঈদ-উল-ফিতরের অবারিত আনন্দ ধারার তুলনা চলে না। কারণ, প্রথমত এ আনন্দ উৎসবের আমেজ গরিবের ছোট্ট কুটির হতে ধনীর বালাখানা পর্যন্ত সমান ভাবে মুখরিত। দ্বিতীয়ত এ আনন্দ অতি পবিত্র ও নির্মল। এ আনন্দ আরও তাৎপর্যময় হয়ে উঠবে যখন আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দ্বীন ইসলামের পতাকাকে আমরা পরিপূর্ণভাবে উড্ডিন করতে পারবো। কারণ সিয়ামের দাবি হলো কুরআনের আলোকে একটি তাকওয়া ভিত্তিক সমাজ কায়েম করা। আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুসরণের মাঝেই কেবল প্রকৃত সুখ ও শান্তি নিহিত রয়েছে। একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষ সেখানে সত্যিকার অর্থে ঈদের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করতে সক্ষম হবে। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা ও ঈদুল ফিতরের প্রকৃত শিক্ষাকে ধারণ করে শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তিই মু’মিন জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে আল কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী নিজেদের অর্জিত সম্পদ থেকে আত্মীয়-স্বজন, অসহায়-এতিম, মিসকিন, পথিক-মুসাফির এবং বন্দীমুক্তির জন্য ব্যয় করতে হবে। বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, চাকুরী হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। অসংখ্য অসহায় মানুষ সীমাহীন কষ্ট দূর্দশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। অন্যদিকে চাল, ডাল, তৈল। মানুষের জীবন সংগ্রাম কার্যত দিনে দিনে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির স্থাপন করে যার যার সামর্থ অনুযায়ী অসহায় মানুষদের ঈদ উদযাপনে সহযোগিতা করতে হবে। ধনী-গরীব সকলের ঈদকে সুখময় করে তোলাই হোক আমাদের প্রত্যয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকারের দমন নীতির কারণে এই রমজান মাসেও দেশের শীর্ষ আলেমগণ নানাবিধ হয়রানী, গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বিশ্ব নন্দিত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সরকারের জুলুমের শিকার হয়ে এখনও কারাগারে বন্দী হয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ঈদের আনন্দকে ঐক্যের সুদৃঢ় বন্ধনে পরিণত করতে আল্লামা সাঈদী, এটিএম আযহারুল ইসলাম ও শীর্ষ আলেমগণ সহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি উদাত্ব আহবান জানায়।
নেতৃবৃন্দ চলমান করোনা ভাইরাস মহামারি সহ সকল সংকট থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট বিশেষ সাহায্য প্রত্যাশা করেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমবি





