রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে আজ ইমাম ও শিক্ষকদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের পক্ষে আগামীকাল জুমার নামাজের পর মসজিদে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের পক্ষে আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে আজ বৃহস্পতিবার ইমাম ও শিক্ষকদের এক সভায় এ আহ্বান জানান তার নির্বাচনী প্রচার দলের সমন্বয়কারীদের একজন সাইফুল হাসান। সভায় আনিসুল হকের পক্ষ থেকে খাবারও বিতরণ করা হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের উত্তরা অঞ্চলের ইমাম ও শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা ছিল আজ। এ সভায় পাঁচশো'রও বেশি ইমাম-শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে জানান সেখানে উপস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. একরামুল হক।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হজ ক্যাম্পে আসেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক। এ সময় তিনি ইমামদের কাছে দোয়া ও ভোট চান।
আনিসুল হক চলে যাওয়ার পর তার নির্বাচনী প্রচার কাজের সমন্বয়কারী সাইফুল হাসান সভায় ভাষণ দেন। তার ভাষণ দেওয়ার আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাস্টার ট্রেইনার মো. কবির আহমেদ মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলেন, আপনাদের যে মেয়র সাহেবের পক্ষ থেকে খাবার দেওয়া হয়েছে, তার একজন লোক এখন বক্তব্য রাখবেন। 
আনিসুল হকের নির্বাচনী প্রচার দলের ওই সমন্বয়কারী ইমাম ও শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘আনিসুল হক সৎজন ব্যক্তি, ভালো মানুষ। উনি মেয়র হলে রাতারাতি ঢাকা শহর বদলে যাবে, আমরা সেটা বলি না। কিন্তু ঢাকা শহরের স্থবিরতা থাকবে না।’
এ ধরনের সভায় আগে কোনো দিন খাবার দেওয়া না হলেও আজ দেওয়া হয়। খাওয়া শেষে প্যাকেটগুলো কক্ষের এক পাশে আবার অনেকের পায়ের কাছে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ সময় সাইফুল হাসান ইমামদের উদ্দেশে আগামীকাল শুক্রবার নিজ নিজ মসজিদে আনিসুল হকের পক্ষে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আগামীকাল জুমার দিন। পবিত্র জুমা শেষে আপনাদের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনারা এলাকাবাসীকে বলবেন, আনিসুল হক আপনাদের সব কটি এলাকার জনগণের কাছে দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি আনিসুল হক তার টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।’
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার চালানো নিষেধ।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে অন্তত ১০ জন ইমামের কথা হয়, তারা প্রত্যেকেই মেয়র প্রার্থীর তরফ থেকে এ খাবার দেওয়া হয়েছে বলে জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তরার একটি মসজিদের ইমাম জানান, তিনি ২০০৯ সাল থেকে এখানের মাসিক সভায় আসেন। এর আগে কখনোই এখানে খাবার বিতরণ করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. একরামুল হক মেয়রের পক্ষ থেকে খাবার দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকে খাবার দেওয়ার কথা মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে এ প্রতিবেদক উল্লেখ করলে তিনি এ বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটারদের মাঝে কোনো ধরনের খাদ্য ও পানীয় পরিবেশন করা নিষেধ। প্রথম আলো
ইআর





