কারও আদেশ নির্দেশ মেনে নয়। যখন সময় হবে তখনই আন্দোলন হবে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের প্রতি আবারও দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এখনো সময় আছে। আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিন। আর তা যদি না দেন তাহলে এর পরিণতির জন্য আপনারা দায়ী থাকবেন।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স  ইনস্টিটিউটশনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ঢাকা মহানগরীর ৬ষ্ঠ  কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কমিটি পুর্ণগঠন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সারাদেশে কমিটি গুলো সাজানোর কাজ চলছে। ঢাকা মহানগরীতে কমিটি হবে। যারা পুরাতন ছিলেন তারা খারাপ ছিলেন এটা আমি বলবো না। আপনারা পুরাতনরা এখন অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এ কারণে নতুন ও মেধাবীদের দায়িত্ব দেয়া হলে সংগঠন শক্তিশালী হবে ও গতিশীল হবে। নতুন ও পুরাতনদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারবে। যারা লোভ লালসা ত্যাগ করে সংগঠনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারবে তাদেরকে আপনারা নেতা নির্বাচন করবেন। তাদেরকে নেতৃত্বে বসাবেন।
খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গুম-খুনের জন্য চোখের পানি ফেলে নয়, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের টাকা খরচ করে সংসদে বসে গালিগালাজ করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষের সহ্যের একটা সীমা-পরিসীমা আছে।
বেগম জিয়া বলেন, সোনার বাংলায় সোনা চোরাচালান হচ্ছে। সোনার ছেলে বসে আছে। এতো সোনা যাচ্ছে কোথায়? এর সঙ্গে জড়িত কেউ তো ধরা পড়ছে না। এসব কারণে দেশে মাদক সেবন বেড়ে চলেছে।
সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় গুলো দখল করে নিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেখানে আমাদের ছেলেদের থাকতে দেয় না। হল গুলো দখল করে সেখানে বসে তারা খুন, গুম মাদক ব্যবসা, চোরাচালান টেন্ডারবাজী করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। কারণ এসবের সাথে তারা জড়িত বলেই তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশে ২৪ ঘন্টায় ৩৬ লাশ পাওয়া গেছে। এসব লাশ পাওয়া যাচ্ছে নদী কিংবা ডোবায়। অনেকের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে আবার অনেকের পরিচয় মেলে না।
শিল্প কারখানা বন্ধ হচ্ছে শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছে। বেকার  হচ্ছে। দেশী বিদেশী বিনিয়োগ হচ্ছে না এই অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ৫ বছর ৩ মাসে দেশে নতুন কোনো দেশী বিদেশেী বিনিয়োগ হয়নি। আর এজন্য দায়ি আওয়ামী লীগ। একদিকে তারা দুর্নীতি করে অন্যদিকে মিথ্যাচার করে।
বিগত ৫ বছরে সরকার বিদ্যুতের দাম ৬ বার বাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার স্বার্থে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে লুটপাটের কারণেই আজ এই দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার শুনছি গ্যাসের দামও বাড়ানো হবে। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে কেবল নিজেদের পকেট ভারী করতেই সব কিছুর দাম বাড়ানো হচ্ছে।
দেশে আজ কোনো কর্মসংস্থান নেই দাবী করে তিনি বলেন,মেধাবী ছেলেরা আজ চাকরি পাচ্ছে না।পাবলিক সার্ভিস কমিশন নামে যে একটি সংস্থা আছে তারাও কোনো ভুমিকা রাখতে পারছে না। দলীয় পরিচয়ে আওয়ামী লীগের লোকদের চাকরি দেয়া হচ্ছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দেয়া হয় না।
সরকার দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে ফোকলা করে দিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো সময়ই জনগণের দল ছিল না। অতীতেও আপনারা দেখেছেন স্বাধীনতার পর এত বিদেশি সাহায্য আসার পরও দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।
তিনি এরশাদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ আজ একা। তাদের সঙ্গে ১৪ দল কেন, কোনো দলই নেই। আর এরশাদ, তিনি নিজেই তো অবৈধ। যে নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল সে কীভাবে সংসদ সদস্য হয়। এখন আবার তাকে বিদেশে দূত নিয়োগ করা হয়েছে। যাকে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। সে আবার বিদেশে গিয়ে দেশের জন্য কী অর্জন করতে পারবে?
সরকারের আচরণে দেশ আজ বিশ্ব দরবারে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে এমন দাবী করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তাদের কারণে আজ বিদেশে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা ফেরত আসছে। নতুন করে কোনো দেশে শ্রমিক নেয়া হচ্ছে না। জুলুম অত্যাচার ও দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। এভাবে দেশ চলতে পারে না।
ঢাকা মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. রেহান আলীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান প্রমুখ।
ঢাকা, এমএইচ, ১২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর