র‌্যাব ভেঙে দেয়ার সুপারিশ জানিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত আচরণ করছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। তা যে সরকার পছন্দ করছে না, তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে গঠিত বিশেষ বাহিনী র‌্যাবকে ডেথ স্কোয়াড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে দাবি করে এই বাহিনীকে ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়েছে এইচআরডব্লিউ, যা রোববার তারা জানিয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ওঠে এবং তাদের এই আহবান প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি আমু সাংবাদিকদের বলেন, এটা দেশীয় বিষয় (র‌্যাব ভাঙা), এটা তাদের বিষয় নয়। তাদের (এইচআরডব্লিউ) চিঠির ওপর ভিত্তি করে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা নেব।

নারায়ণগঞ্জে সাত হত্যাকাণ্ডে র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর এই বাহিনীকে বিলুপ্ত করার দাবি তোলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যিনি র‌্যাব গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তার দাবির প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে বলেছিলেন, চট করে র‌্যাব বন্ধ করে দেওয়া সম্ভবপর নয়।

র‌্যাব ভেঙে দেওয়ার দাবির পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮০০ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এই বাহিনী। এইচআরডাব্লিউর চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার র‌্যাব সংস্কারের মধ্য দিয়ে এ বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে এলেও তা পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। র‌্যাবকে এখন আর সংস্কার করে চালানো সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি না। আইনের ঊর্ধ্বে থেকে কোনো ধরনের জবাবদিহিতার তোয়াক্কা না করে র‌্যাবব পরিচালনার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেছে। এই অবস্থায় এ বাহিনীকে অবশ্যই বিলুপ্ত করতে হবে, যাতে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হয়।

আমু জানান, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন এবং ফেনীর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তবে কমিটি তা আরো ত্বরান্বিত করতে বলেছে। ঢাকার মিরপুরে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের (বিহারি) ক্যাম্পে হতাহতের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

ঢাকা, ২১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই