দেশে উৎপাদিত পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত কোনো দুধেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই। খোলাবাজারের দুধসহ আটটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত দুধের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে এর মধ্যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে কৃষি গবেষণা কাউন্সিলসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন ল্যাবে দুধের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম পরীক্ষার ফলাফল তুলে ধরে বলেন, দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, সালফা ড্রাগ ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমরা ক্ষতিকর কিছু পাইনি। দুধ খেয়ে কারো মরারও আশঙ্কা নেই।

মনিরুল ইসলাম বলেন, দুধে এন্টিবায়োটিক, সালফা ড্রাগ ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য আমরা পুষ্টি ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাজারজাতকৃত পাস্তুরিত দুধসহ কাঁচা তরল দুধ সংগ্রহ করে এসব নমুনা পরীক্ষা করেছি। মিল্ক ভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, ইগলু, আরডি, সাভার ডেইরি ও প্রাণের দুধ পরীক্ষা করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের দুধ সংগ্রহ করে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ করে ভারতের চেন্নাইতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান এসজিএস থেকে দুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে কোনো প্রকার সালফা ড্রাগ পাওয়া যায়নি।

ড. মনিরুল আরো বলেন, দেশের ১৬টি নমুনার মধ্যে মিল্ক ভিটায় স্ট্রেপটোমেসিনের উপস্থিতি প্রতি কেজিতে ১০ মাইক্রোগ্রামের নিচে পাওয়া গেছে। তবে তা মানবদেহের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ২০০-এর অনেক নিচে।

কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক বলেন, প্রাণের দুধের নমুনায় শুধু ক্লোরামফেনিকলের উপস্থিতি প্রতি কেজিতে ০.৬ মাইক্রোগ্রাম পাওয়া গেছে। দুধের ক্ষেত্রে ক্লোরামফেনিকলের কোনো প্রকার নির্ধারিত মাত্রা পাওয়া যায়নি। তবে কারো কারো মতে ০.১ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য।

এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা যে আটটি কোম্পানির দুধ পরীক্ষা করেছি সেগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ। মানুষ নিশ্চিন্তে দুধ পান করতে পারবে।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, একটি নমুন পরীক্ষা করতেই ১৫ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। কাজেই আমরা দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার গড়ে তুললে এসব পরীক্ষা আমাদের দেশেই সম্ভব হবে।

এমআর