২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল বাতিলের যে দাবি শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছে তা অবিলম্বে মেনে নেয়ার আহবান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী।

রোববার দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন,মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের যে দাবি শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছে তা যৌক্তিক এবং ন্যায্য।

তিনি বলেন, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার যে ফলাফল আজ ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে তা বাতিলের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছে।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে এ পরীক্ষার ফলাফলকে সঠিক বলে মনে করছে না শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যদি ফাঁস হয়ে যায় তাহলে সে পরীক্ষার ফলাফলের দ্বারা সঠিকভাবে মেধা যাচাই করা যায় না।

তিনি আরো বলেন, যে সব শিক্ষার্থীরা রাত-দিন কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশুনা করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল তাদের পক্ষে এ প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হলে পরীক্ষা গ্রহণ অর্থহীন হয়ে যায়। সরকারী দলের অসৎ লোকেরাই তাদের সমর্থনকারী ছাত্রদের ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করানোর জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দ্বারা আবারো প্রমাণিত হলো বর্তমান সরকার ব্যর্থ ও অযোগ্য। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ টাকার বিনিময়ে সরকারী দলের লোকেরা শিক্ষার্থীদের নিকট প্রশ্নপত্র বিক্রি করেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত মেডিকেল ও ডেণ্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রের দ্বারা সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

ডা. শফিকুর বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

সেই সাথে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এ ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এআর