জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার কিছুক্ষণের মধ্যে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে শুরু হতে যাচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও সেখানেই রয়েছেন । আর এই উদ্দেশ্যে কারাগার প্রাঙ্গনে বিশেষ নিরপাত্তার আশ্রয় নিয়েছে প্রশাসন।
বিশেষ করে কারাগারের প্রধান ফটক থেকে শুর করে কারাগারমুখী সকল রাস্তায় পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
এদিকে কিছুক্ষণের মধ্য বিচারক প্রবেশ করবেন বলে পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন। আর তারই সাথে সাথে প্রবেশ করতে পারবেন ১২ আইনজীবী। মূলত আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ মিলে মোট ১২ জন আইনজীবী ভিতরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫ এর পেশকার তাজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে বিচার কাজ চলা সময়ে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের ১২ জন আইনজীবী কারাগারে প্রবেশ করতে পারবেন।
এদিকে বিএনপির আইন সম্পাদক কায়সার কামাল জানিয়েছন, খলেদা জিয়ার সকল আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে বকশিবাজার কোর্টে আসবেন। আদালত থেকে জানানোর পর তারা কারাগারের কোর্টে আসবেন।
মঙ্গলবার জানানো হয়, আলিয়া মাদ্রসার পরিবর্তে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিশেষ আদালত বুধবার বসবে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। কারণ এখানে বিএনপি চেয়ারপর্সন বেগম খালেদা জিয়া বন্দী আছেন। মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে একে ‘আইন পরিপন্থী’ বলেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন—খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন।
২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।
এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অর্থদণ্ডও করা হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানীর বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
জেড





