জনগণের আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ অনির্বাচিত সরকারের পতন হবে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের মধ্যদিয়ে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে রবিবার সন্ধ্যায় ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক।
ট্রাফিক জ্যামের কারণে ইফতার গ্রহণের সময় খালেদা জিয়া লেডিস ক্লাবে উপস্থিত হন। এরপর ইফতার শেষে তিনি কয়েক মিনিট বক্তব্য রাখেন।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নির্বাসিত। আইনের শাসন অনুপস্থিত। মানবাধিকার ভূলুন্ঠিত। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। মানুষ এখন প্রতিনিয়ত গুম, খুন, হত্যা, নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এজন্য দায়ি এ অনির্বাচিত জবর-দখলকারী সরকার। কারণ তারা কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাদের নিয়ন্ত্রনে কিছু নেই।
তিনি বলেন, রোজার মাসে নিত্যপণ্যর উর্ধগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস। সাধারণ মানুষ আজ কষ্ট করে রোজা থাকছে। সেই দিকে এ অবৈধ সরকারের কোনো নজর নেই। তারা মিথ্যা কথা বলে আর বড় বড় বুলি আউরায়। আর বড় বড় প্রকল্পের মাধ্যমে লুটপাট করে আর কমিশন খায়।
খালেদা বলেন, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দলীয় করণ করা হয়েছে। শুধু বিএনপি করার কারণে ভাল ভাল চিকিৎসককে আজ চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পুলিশ বাহিনী আজ চরম অত্যাচার ও দুর্নীতির সঙ্গে লিপ্ত। তারা গুম করে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মানুষকে ক্রসফায়ার না হলে জেলে নিয়ে যাবে। পুলিশ ছিল জনগণের সেবক। কিন্তু আজ পুলিশ বাহিনীকে দলীয়করণ করে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। পুলিশ এখন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। তারা বলে এ সরকারকে আমরাই টিকিয়ে রেখেছি। বোমা মেরে ও গাড়ী জ্বালিয়ে বিরোধীদলের লোকজনকে আটক করে তাদের আন্দোলনকে দমন করেছি। আজকে পুলিশের হাত আইনের চেয়েও লম্বা। আগে ছিল আইনের হাত লম্বা। সেই পুলিশের কাছ থেকে আজকে জনগণ ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করতে পারে না। পুলিশের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগে এই অবৈধ সরকার নিজেদের লোকজনকে বসিয়েছে। তাই সেখানে সাধারণ জনগণ কোনো সুবিচার পায় না। অথচ আওয়ামী লীগের লোক হলে তাদের কিছুই হয় না। তারা পার পেয়ে যায়।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ স্বৈরাচারের পতন হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে শান্তি ফিরে আসবে। বাংলাদেশের সুনাম ফিরে আসবে। আর এ চোর, দুর্নীতিবাজ সরকারের হাত থেকে দেশ মুক্ত হবে, ইনশা আল্লাহ।
এদিকে, জ্যামের কারণে ড্যাবের আরেক আমন্ত্রিত অতিথি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ কি এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ইফতার শুরুর প্রায় ৫ মিনিট পর অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌছান। পরে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রয়োজনে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আশাকরি ড্যাব এ ঐক্য প্রচেষ্টায় ভূমিকা পালন করবে।
ইফতার মাহফিলে পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিকুল হক, ইউট্যাবের চেয়্যারম্যান আ ফ ম ইউসূফ হায়দার, বিচারপতি আবদুর রউফ চৌধুরী , জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. মোস্তাহিদুর রহমান, প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন, নিউজ টুডে পত্রিকার সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, মোস্তফা কামাল মজুমদার, দিনকাল পত্রিকার সম্পাদক ড.রেজোয়ান সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, ড. মামুন আহমেদ পেশাজীবি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান,
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এম কে আনোয়ার, বেগম সারোয়ারি রহমান, ড. মঈন খান, লে. জে (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, ভাইসচেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ওলামা দলের সভাপতি আব্দুল মালেক, দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।
এমএইচ





