সরকারের দায়ের করা মিথ্যা, বায়বীয় ও কাল্পনিক অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করায় হতাশা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
একই সঙ্গে মুজাহিদসহ আটক সকল নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ।
বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার জামায়াতকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলা দায়ের করে বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করেছে।
সরকারী ষড়যন্ত্রের শিকার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। সরকার তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মিথ্যা অভিযোগে ষড়যন্ত্রমুলক মামলা দায়ের করে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই। কোন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষীও নেই। এতদসত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
মুজাহিদ এ রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে আপীল করেন। মাননীয় আপীল বিভাগ মুজাহিদের আপীল খারিজ করে ৬ নং অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আজ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন। এ রায়ে মুজাহিদ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দেশের জনগণ এ রায়ে হতাশ হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, সরকারের দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক, মিথ্যা ও কাল্পনিক। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলাধীন কোন থানায় বা বাংলাদেশের অন্য কোন থানায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত কোন অপরাধের জন্য কোন মামলা হয়েছে, এমন কোন তথ্য তিনি তার তদন্তে পাননি।
মামলার আইও এটাও স্বীকার করেছেন যে, মুজাহিদ আল বদর, শান্তি কমিটি, রাজাকার বা আল শামস বা এই ধরনের কোন সহযোগী বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, এমন কোন তথ্য তিনি তার তদন্তকালে পাননি।
সরকারের দায়ের করা ৬ নং অভিযোগে মুজাহিদকে বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে জড়ানোর ষড়যন্ত্র করা হয়। সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানোর জন্য বুদ্ধিজীবী হত্যার এই অপবাদ রচনা করে। তার বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগ পত্রের কোথাও একটি বারের জন্যও বলা হয়নি যে, মুজাহিদ কবে কিভাবে কোন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা বা অপহরণ করেছেন।
বুদ্ধিজীবী পরিবারের কোন সদস্য, যারা ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কথিত ঘটনার ভিক্টিম তাদের কারো স্ত্রী বা সন্তান-সন্ততি ট্রাইব্যুনালে এসে জনাব মুজাহিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করেননি। তারপরেও তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করায় মুজাহিদ ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মুজাহিদ এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের করবেন। রিভিউ আবেদনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে তিনি খালাস পাবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
জামায়াত নেতা মকবুল আহমাদ বলেন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে হত্যার সরকারী ষড়যন্ত্র বন্ধ করে এই মুহূর্তে তিনিসহ আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করার জন্য আমি জোর দাবি জানাচ্ছি।
এআর





