আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে বঙ্গবন্ধু সব ত্যাগ করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার রাজধানীর ‍আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দলটির ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি  এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরে আমি প্রায় প্রতিটি জায়গায় গিয়ে শুনেছি এখানে বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন। বাঙালিকে স্বাধীনতা এনে দেবেন, এই অভিপ্রায় থেকেই তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন। গিয়েছেন গ্রামে গ্রামে।

‘যে কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংগঠন প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ তাই করেছে। আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে নেতা-কর্মীদের খোঁজ খবর নিতেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা পেশ করলেন। এরপর ঘরে বসে থাকেননি তিনি। সমগ্র বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন।’

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে ‘তথাকথিত’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে রাখা হয়। আমরা জানতামই না তিনি কোথায় আছেন।

‘তবে ‍বাংলাদেশের মানুষ জাতির পিতার আদর্শ মেনে চলেছে। এরপর গণঅভ্যুত্থান হলো। তিনি মুক্তি পেলেন। আর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিজয়ের জন্য প্রস্ত‍ুতি নিয়েছেন, আওয়ামী লীগকেও প্রস্তুত রেখেছেন,’ বলেন তিনি।  

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশের মানুষকে সংগঠিত করার পাশাপাশি বিদেশেও জনমত গড়ে তোলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি তার দুরদর্শী চিন্তাধায় বুঝতে পেরেছিলেন-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে কিন্তু পাকিস্তানি শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না।

‘তাই প্রবাসীদের সহায়তায় লন্ডনে যান এবং সেখানে বসেই সশস্ত্র যুদ্ধের সব কৌশল ও পরিকল্পনা করেন। সবাইকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেন।’

৩২ নম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশনা দিতেন সে অনুযায়ীই বাংলাদেশ চলতো এবং মানুষ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতো বলেও উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু নিদের্শ দিয়েছিলেন, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে। মানুষও তার ডাকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, কিছু রাজাকার ও পাকিস্তানিদের পদালেহনকারী ছাড়া।

‘এমনকি তার নির্দেশ ছাড়া বাংলাদেশে আসা তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক ইয়াহিয়া খানের জন্য খাবারও রান্না হয়নি,’ যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও দেশের মানুষকে অধিকার আদায়ের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার নিদের্শেই প্রত্যেক এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা হয়।
মাইকিং করে, টেলিগ্রাম পাঠিয়ে কিংবা লিফলেট বিতরণ করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা প্রচার করা হয়। এতে বাঙালি জাতি সাড়া দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়। আর তাতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পকিস্তানের অনুচররা।

‘২৫শে মার্চ কালো রাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন একটি সেলে বন্দি রেখে জুলুম অত্যাচার করা হয়েছে। তবে তিনি জানতেন এদেশ স্বাধীন হবে। তাই পাকিস্তানের জেলে বন্দি থেকেও বাংলার মানুষের মুক্তির জয়গান গেয়েছেন,’ বলেন শেখ হাসিনা।  

তিনি বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধুকেই নয়, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও জুলুম নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি তাদের ছেলে-মেয়েদের ওপরও নির্যাতন করেছে পাকিস্তানিরা। কিন্তু তারা কখনও মাথা নত করে নাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল ছিল।

‘এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর শক্তি। শক্তিশালী সংগঠন করেছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়, স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হয়েছে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।  

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেআইি