আগামী ১৯ মার্চ, শনিবার। ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। প্রায় অর্ধযুগ পরে অনুষ্ঠেয় বহুল কাঙ্খিত কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলটিতে।
আর এজন্য দলের পক্ষ থেকে রাজধানীর সম্ভাব্য তিনটি স্থানের নাম উল্লেখ করে গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না হলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র বা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন কাউন্সিলের জন্য বরাদ্দ চেয়েছে বিএনপি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পায়নি দলটি।
এদিকে কাউন্সিলের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির সিনিয়র নেতারা আসন্ন কাউন্সিলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বাধা দানের অভিযোগ তুলছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জে. (অব.) আ স ম হান্নান শাহ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আগামী ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুতি চলছে। এরমাধ্যমে দল আরও গতিশীল হবে বলেও দাবী করেন তিনি।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, আসন্ন কাউন্সিলের মাধ্যমে দেখিয়ে দেয়া হবে, বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল ও সংগঠিত দল।
আসন্ন কাউন্সিল ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল বাধাগ্রস্ত করতেই বেগম খালেদা জিয়া-সহ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে।
দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ যে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছে, তাতে তাদের লক্ষ্যই হচ্ছে, আমরা মার্চে যে সুসংগঠিত কাউন্সিল করতে যাচ্ছি, তাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং কাউন্সিলের সফলতা বিনষ্ট করা। এটা তাদের (সরকার) একটি দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্র।
তবে সব বাধা উপেক্ষা করে কাউন্সিল করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় জানান বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো দুরভিসন্ধি বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলের কার্য্ক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না। ইনশাল্লাহ আমরা আমাদের কাউন্সিল করবই।
কাউন্সিলের প্রস্তুতির বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির দফতরের দায়িত্বে থাকা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ‘আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলকে সফল করতে দলের পক্ষ থেকে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে।
সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে এরইমধ্যে সারা দেশের দলের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি থানা ও জেলা পর্যায়ে দুইজন করে নারী কাউন্সিল বানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কাউন্সিলের জন্য উপকমিটি গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন। কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য ১৪ উপকমিটির খসড়াও এরইমধ্যে তৈরি করে রাখা হয়েছে। সহসাই এসব কমিটির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এছাড়া অতিরিক্ত হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সংশোধন উপ-কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন বিগত কাউন্সিলে এ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বিচারপতি টি এইচ খান। তবে তার অসুস্থতাজনিত কারণে এ দায়িত্বে বিকল্প হিসেবে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের নাম।
এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ শৃঙ্খলা ও সেবাদান উপ-কমিটি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন।
একইভাবে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম ড্রাফট উপ-কমিটি ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রচার উপ-কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন।
প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে প্রবীণ সাংবাদিক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক শফিক রেহমানের নাম থাকলেও এ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করতে পারেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
পঞ্চম কাউন্সিলে শফিক রেহমান এ কমিটির আহ্বায়ক থাকলেও এবার ড. মঈন খানের সঙ্গে তাকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।
এদিকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে প্রকাশনা উপকমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা আপ্যায়ন উপকমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু অর্থ উপকমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্বাস্থ্য ও সেবা উপকমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন।
দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে অফিস ও যোগাযোগ উপকমিটি, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন।
এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বর্তমানে কারাগারে ও ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
সূত্র জানায়, মির্জা আব্বাস কারাগারে থাকলেও কাউন্সিলের আগেই তিনি মুক্তি পাবেন বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
অন্যথায় এ ক্ষেত্রে তার পরামর্শ মোতাবেক পূর্ণাঙ্গ গঠিত কমিটি এ দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাদেক হোসেন খোকার সহসা দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম।
সূত্র জানায়, মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার অনুপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর কমিটির ওপরই আপ্যায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।
এদিকে বিএনপির দফতর সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এসব উপকমিটির আহ্বায়কদের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার ব্যাপারে কাজ শুরু করেছেন দলের চেয়ারপারসন কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় দফতর। বিগত কাউন্সিলে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন উল্লিখিত নেতারা।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও দলের কেন্দ্রীয় দফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় করবেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ৩ বছর পর পর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘ ছয় বছর পার হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় কাউন্সিল হতে যাচ্ছে বিএনপির।
অন্যদিকে বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা আছে, জাতীয় কাউন্সিলে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হবে। এই কমিটি নির্বাচিত হবে তিন বছরের জন্য।
সে হিসাবে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলটির আরও দুটি কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় একটিও হয়নি। উল্লেখ্য, বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর।
এমএইচ/এসএইচ





