উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’ চারদলীয় জোট সরকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা।

শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি করেন।

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৯১ মিটার উচ্চতার ২১তলা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারটি শনিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর একদিন আগে এই বিবৃতি দিলেন তারা।

বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণ শুরু হয়।

তিনি যদি বিনামূল্যে জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা ও উদ্যোগ না নিতেন তাহলে চট্টগ্রামবাসীর জন্য ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্বপ্নই থেকে যেত। এটা তারই অবদান।”

এতে বলা হয়, সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব মোহাম্মদ সেলিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিবৃতির বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়।

যৌথ বিবৃতিটি দিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও চেম্বারের সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী, চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ সরওয়ার জামান নিজাম, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি সামশুল আলম ও আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল ও উত্তর জেলার সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, বিএনপি জোট সরকারের সময়কার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাজ শুর হয়েছিল। এ বিষয়ে সার্বিক সহিযোগিতা করেন সেসময়ের বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এতে বলা হয়, “ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণের জন্য চেম্বার নেতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে সেসময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আগ্রাবাদস্থ পিডব্লিউডি’র মাঠটি নামমাত্র এক টাকা মূল্যে বরাদ্দ দেন।”

ওই জমি পর্যাপ্ত না হওয়ায় ১৯৯৬ সালে চেম্বারের একটি প্রতিনিধি দল সেসময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে পার্শ্ববর্তী রেলের আরেকটি জমি বরাদ্দের আবেদন জানান দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, “কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ন্যায্য মূল্যে রেলওয়ের জমিটি কিনতে চেম্বার নেতাদের পরামর্শ দেন; যাতে করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।”

এতে বলা হয়, “২০০১ সালে বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরুর সহযোগিতায় চেম্বার নেতারা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাখে দেখা করে রেলের জমি বরাদ্দের অনুরোধ করেন।

“এর পরই বেগম খালেদা জিয়া রেলের জমি এবং দুই জমির মধ্যবর্তী পিডব্লিউডি’র আরেকটি ছোট জমি বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা করেন।”

এরপর চট্টগ্রাম চেম্বার ভবন নির্মাণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “চেম্বার নিউ ইয়র্কভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে।

এজন্য এক কোটি টাকা চার কিস্তিতে পরিশোধের কথা ছিল। প্রথম কিস্তির টাকা জমা দেওয়ার পরই সদস্যপদ পায় চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

“এরপর সেসময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।”

এসএইচ